195729

বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বন্দরের ১৬ কর্মীকে আটক

আওয়ার ইসলাম: লেবাননের রাজধানী বৈরুত যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। রক্তাক্ত হয়ে ছুটছে মানুষ। হাসপাতালেও ঠাঁই পাচ্ছেন না আহতরা।

বিলাসবহুল হোটেল, আবাসিক ভবন সবকিছু এখন ধ্বংসস্তূপ। আহতদের চিৎকার আর নিখোঁজের স্বজনদের দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। এই ধ্বংসলীলার মধ্যে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে লেবাননের সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে শহরটিতে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। তাছাড়া ভয়াবহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বন্দরটির ১৬ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের বন্দর এলাকা থেকে বড় গম্বুজ আকারে ধোঁয়া উড়ছে, এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে গাড়ি ও স্থাপনা উড়ে যেতে দেখা যায়।

বিস্ফোরণস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে থাকা ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননে চরম গৃহযুদ্ধ চলার সময়ও এতটা ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যায়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতালগুলোও। এতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। বিস্ফোরণস্থলের দুই কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত সেন্ট জর্জ হাসপাতাল। সেখানকার এক চিকিৎসক গার্ডিয়ানকে বলেন, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসছে মানুষ, তবে আমরা তাদের ভর্তি করাতে পারছি না। তাদের রাস্তার উপরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতাল ভবন ভেঙে গেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে জরুরি বিভাগ।

লেবাননের রেডক্রসের প্রধান জর্জেস কেট্টানেহ সম্প্রচার মাধ্যম মায়াদিনকে বলেন, আমরা যা দেখছি তা বড় ধরনের এক বিপর্যয়। চারদিকে হতাহতদের দেখা যাচ্ছে। আহতদের বাঁচাতে মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে রেডক্রস।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে বিস্ফোরণের পর পরই বন্দর এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের ভিড় জমাতে দেখা গেছে। ভাইয়ের খোঁজে আসা এক তরুণী নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বারবার খোঁজ জানতে চাইছিলেন। ভাইকে চেনাতে তার শারীরিক গঠনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।

বলছিলেন, তার নাম জাদ। তার চোখগুলো সবুজ। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন না। আর ওই নারী বারবার তাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন ভেতরে যেতে দেওয়ার জন্য।

-এটি

ads