194511

আল্লামা শফীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নিবেন বেফাকের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

আব্দুল্লাহ আফফান: হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নিবেন বেফাকের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। আল্লামা আহমদ শফী বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের চেয়ারম্যানও।

গতকাল মঙ্গলবার বেফাকের খাস কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বেফাকের সহসভাপতি মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেন। বৈঠকে সব বিষয়েই কথা হবে বলে জানান তিনি।

খাস কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন- বেফাকের সহসভাপতি আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী, মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আবদুল হক ময়মনসিংহ, মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা সাজিদুর রহমান দারুল আরকাম মাদরাসা, মাওলানা ছফিউল্লাহ পীরজঙ্গী মাদরাসা, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া। মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ও মাওলানা নুরুল আমিন এবং অর্থ সম্পাদক মাওলানা মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

সূত্র জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ এবং নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফসহ তিনজনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাক।

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। মহাসচিবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়াও ফোনালাপে বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা ত্বহার নামও ওঠে এসেছে। নানা অনিয়ম ও বেফাকের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা বিভাগে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণীকে এই মুহূর্ত থেকে বেফাকের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বরখাস্ত করা হয়। বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক আওয়ার ইসলামকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক কিছু ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে বেফাক নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছে তোলপাড়। কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধা তালিকা নিয়ে সিরিয়াল জালিয়াতি, পরীক্ষার মারকাজ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, স্বজন-প্রীতি, মুরব্বি আলেমদের নামে তুচ্ছ-তাচ্ছিল এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এসব ফোনালাপসহ এ পর্যন্ত বেফাকে হওয়া সব অনিয়মের বিচার দাবি করেছেন কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, শুধু আবু ইউসুফ কিংবা তার সহযোগীরা নয়, মহাসচিবসহ যারাই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার করতে হবে।

-এএ

ad