194452

বিমানবন্দরেই দ্রুত নির্ভুল করোনা পরীক্ষা সম্ভব: ডা. জাফরুল্লাহ

আওয়ার ইসলাম: সরকার চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট দিয়ে বিমানবন্দরেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আর তা দেখে হাসপাতালে শুয়ে কষ্ট পাচ্ছি। সরকারকে কোনোভাবেই ভুল পথ থেকে সরানো যাচ্ছে না। সরকারের ভেতরে শুভবুদ্ধির উদয় হওয়াটা খুব জরুরি। নয়তো দেশের মান-সম্মান আরো নষ্ট হবে।

তিনি বলেন, দেশীয় বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত গণস্বাস্থ্যের কিট যদি অনুমোদন পেত, তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর থেকেই যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব হতো। তখন কারা বিদেশ যেতে পারবেন, আর কারা পারবে না, তা শনাক্ত করা সহজ হতো। এই কিট দিয়ে একেকজন যাত্রীর পরীক্ষা করতে সর্বোচ্চ ৩-৫ মিনিট সময় লাগবে।

সরকারের দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা এখন পাঁচ, ১০ বা ২০ হাজার টাকায় করোনার জাল সার্টিফিকেট কিনে বিদেশে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হচ্ছে। আর দেশে করোনার পরীক্ষা নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। এগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। দেশের জন্য এটা খুবই লজ্জাজনক।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বলেন, পৃথিবীর কোনো পরীক্ষাই শতভাগ সফল ফল দেয় না। সরকারের আরটি-পিসিআর পরীক্ষাতেও কমবেশি ৩০ শতাংশ ভুল ফল আসে। সেই তুলনায় গণস্বাস্থ্যের কিটে ভুল আসার সম্ভাবনা কিছুটা কম। কিন্তু বিএসএমএমইউ যে পদ্ধতিতে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে সেটির সঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মূল্যায়নের কোনো মিল নেই। যার ফলে কিট এখন পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি।

এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশ গমন করতে হলে সব যাত্রীকে বাধ্যতামূলক করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিতে হবে। আর তা সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এতে করে সমস্যার সমাধান হবে না। উল্টো আরো অনিয়ম-দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানি বাড়বে বলে মনে করেন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, ধরুন, একজন মানুষ আজ নমুনা পরীক্ষা করতে দিলেন। সরকারের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার ফল পেতে তার পাঁচ, সাত, ১০ বা ১৫ দিনও লাগতে পারে। এমনও হতে পারে নমুনা দেয়ার সময় তার শরীরে করোনা ছিল না। কিন্তু মাঝের এই কয়েকদিনে তার মধ্যে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে। তখন ওই ব্যক্তি যদি বিদেশ গমন করেন এবং সেই দেশের বিমানবন্দরে গিয়ে আবার পরীক্ষা করার পর দেখা গেল তিনি কোভিড-১৯ পজেটিভ।

এতে করে এটাই প্রমাণিত হবে যে, বাংলাদেশ সরকার যে সার্টিফিকেট দিয়েছে, সেটা ভুল। যা আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরও যদি বিদেশে যাওয়ার পর পজেটিভ আসে, তাহলে পুরো বিশ্বে দেশের মান-সম্মান আরো বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা বলতে কিছুই থাকবে না, যোগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

-এএ

ad