194258

‘বহির্বিশ্বে বড় ধরনের বিপদে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ’

আওয়ার ইসলাম: বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে বর্তমান সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা প্রদর্শন করে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার শুরু থেকেই যে ধরণের ঢিলেঢালা মনোভাব প্রদর্শন করছিলো তার সমূহ বিপদ আঁচ করতে পেরে আমরা সরকারকে আগেই সতর্ক করে বলেছিলাম, করোনা টেস্ট এবং ট্রিটমেন্ট এর ব্যাপারে সরকারের সিরিয়াস হওয়া দরকার। রিজভী বলেন, একেরপর এক এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার মধ্যে এখন আবার করোনা টেস্ট নিয়ে ভূয়া সার্টিফিকেট ও জালিয়াতির জন্য বিদেশের গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ।

‘দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের খবরে আরো জানা গেছে, ইতালী, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, কাতার, আরব আমিরাতসহ অনেকগুলো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাংলাদেশীদের ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। ইতালিতে বাংলাদেশীদের বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশীদের বহনকারী বিমানকে বলা হচ্ছে ‘করোনা বোমা’। এমনকি শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী যারা গত বুধবার ইতালির রোমের বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছেছিলেন, সেখানে তাদের অনেকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় প্রায় সবাইকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইতালির মুলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভুয়া সার্টিফিকেট কেনা বেচা নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, করোনা নিয়ে সরকারকে সিরিয়াস হতে শুরু থেকেই আহ্বান জানাচ্ছি। গত ২২ মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান করোনা টেষ্টের গুরুত্ব সম্পর্কে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন- ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখিয়ে নিজেদের কাগুজে সাফল্য দেখানোর চেয়ে বেশি জরুরী করোনা ভাইরাস টেস্ট নিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন। কারণ, গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে করোনা ভাইরাস টেস্টের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে ভবিষ্যতে নাগরিকদেরকে অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশে যেমন ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের নাগরিকদের বিদেশের শ্রম বাজারে থাকা না থাকার বিষয়টিও বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

রিজভী বলেন, আজকের বাস্তবতায় দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির এই আশংকাটি এখন দুঃখজনকভাবেই সত্য হতে চলেছে। ইতালী, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, কাতার, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে তাদের দেশে ঢুকতে আরোপ করছে নানা বিধিনিষেধ। ইতালিতে পৌঁছার পর ১৫২ জন বাংলাদেশীকে দেশটিতে ঢুকতে না দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত দেয়া প্রমান করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি কতটা উদাসীন। সরকারের দৃষ্টি শুধুই যেন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রতি, প্রবাসীদের স্বার্থের প্রতি নয়।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি করোনা ভাইরাস ‘ট্রেস-টেস্ট এবং ট্রিটমেন্ট’ নিয়ে সরকার কি করছে, কি ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে এগুলো জনগণকে জানাতে হবে। এমনকি করোনা মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। সরকার সেই দাবি কানে নেয়নি। বরং এখন খবর বেরুচ্ছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় করোনা মোকাবেলায় ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং রিজেন্ট হাসপাতাল’ নামের কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে ‘করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের’ অনুমোদন দিয়েছে। তাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল, এইসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধার’রা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ঘনিষ্ঠ।

অনুমোদন পেয়ে এইসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা টাকার বিনিময়ে হাজার হাজার মানুষকে রক্ত পরীক্ষা না করেই ‘করোনামুক্ত সার্টিফিকেট’ ইস্যু করতো। এদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আটক কিংবা ফেরত আসতে শুরু করায় এখন সরকারের টনক নড়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কখনো হলমার্ক কেলেঙ্কারি, কখনো রিজার্ভ ফান্ড লুট, কখনো ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি আর এখন করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিয়ে কেলেঙ্কারি চলছে। প্রতিটি কেলেঙ্কারির হোতা সরকারি দলের পদ পদবীধারী নেতা কিংবা সরকারের বিশেষ আনুকূল্যপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজরা। বাংলাদেশে ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, করোনার ভুয়া প্রত্যয়নপত্রবাজে এখন দেশ ভরে গেছে।

রিজভী আরও বলেন, দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে ‘করোনা কেলেঙ্কারি’ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় বর্তমান সরকারপ্রধানের উচিৎ ছিল ন্যুনতমপক্ষে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সেটি না করে আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর মুখে ভিন্ন সুর। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘তারা চোর ধরছেন অথচ তাদেরকেই চোর বলা হচ্ছে’। তার এই আক্ষেপের কারণ জনগণ বুঝতে পারছে না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা দিয়ে কি বোঝাতে চাইছেন? করোনার আঘাতে এই দুর্ভিক্ষাবস্থায় অসহায় কর্মহীন মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী ত্রাণ নিয়ে আওয়ামী নেতা ও তাদের তথাকথিত জনপ্রতিনিধিরা যে কেলেঙ্কারী করছেন, তারপরও তাদেরকে চোর বলা যাবে না? মাটির তলে, খাটের তলে, খড়ের পালার মধ্যে, গ্যারেজের ভেতর থেকে হাজার হাজার বস্তা চাল ও হাজার হাজার লিটার তেল যাদের বাসা থেকে বের হচ্ছে তারা সবাই আপনার দলের লোক।

তিনি বলেন, মধ্যরাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আসার ফলশ্রুতি হচ্ছে এই বর্তমান ত্রাণ চুরি ও করোনা পরীক্ষার নকল সার্টিফিকেট। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর এটি কেমন আক্ষেপ? চোর চুরি করে চুপি চুপি। আর ডাকাতি হয় প্রকাশ্যে। এই সরকারের আমলে কোনো দুর্নীতিই গোপনে হয়নি। প্রতিটি দুর্নীতি হয়েছে প্রকাশ্যে। বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার, বিরোধী দল ও মতের মানুষকে গুম-খুন-অপহরণ আর নির্মম নির্যাতন নিপীড়ণের মাধ্যমে নিজেদের অপশাসনকে দীর্ঘায়িত করাকেই নিজেদের সাফল্য হিসেবে প্রচার করছিলো। কিন্তু চলমান করোনা সংকট প্রমাণ করেছে, আইন শৃংখলা বাহিনীকে দিয়ে গুম-খুন-অপহরণ করানো ছাড়া এই সরকারের পক্ষে ভালো কিছু করার দৃষ্টান্ত নেই।

-এএ

ad