192179

‘ইলমে ফিক্বহে স্থান কাল পাত্রভেদে মাসআলায় ভিন্নতা আসে’

হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির আল মাহদি।।
বার্সেলোনা, স্পেন>

ইলমে ফিক্বহ এমন একটি বিষয় যেটিকে ফিজিক্যাল সাইন্সের সাথে কিছুটা তুলনা করা যেতে পারে। কারন ফিজিক্যাল সাইন্সে অনেক সময় দেখা যায় রোগ বা অসুস্থতায় মিল থাকলেও স্থান কাল পাত্রভেদে ঔষধের মাঝে অমিল। ব্যক্তি বিশেষ ঔষধের মাঝে এমন ভিন্নতা আসে।
টিক একইভাবে ইলমে ফেক্বহের বেলায় স্থান কাল পাত্রভেদে ও ব্যক্তি বিশেষ মাস’আলার মাঝে ভিন্নতা আসতে পারে।

অনেক সময় ননমুসলিম দেশের মাস’আলা সমূহ মুসলিম দেশে, আবার মুসলিম দেশের মাস’আলা সমূহ ননমুসলিম দেশে প্রযোজ্য করে তালগোল লাগিয়ে দেয়। খাস (বিশেষ) মাস’আলাকে আ’মভাবে (সাধারন) প্রযোজ্য করে।

মাস’আলা বর্ণনার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনদের মূলনীতি অনুসরন করা হচ্ছে আরেকটি যোগ্যতা। নিত্য নতুন মাস’আলা সমূহে অবশ্যই প্রত্যেক আলেমর জন্য সালাফদের নির্ধারণ করা মূলনীতি অনুসরন করা জরুরী। শুধু শুধু হাদিসে আছে বা নিজকে কোরআন হাদিসের জ্ঞানী মনে করে, ডিসিশন দিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। বুঝতে হবে সুন্নাহ আর হাদিসের ভিতরের তাৎপর্য। কারন রাসুল (সা) বলছেন
‎تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما : كتاب الله ، وسنة نبيه
“আমি তুমাদের মাঝে দুটি বিষয় ছেড়ে যাচ্ছি। এদুটি বিষয় আঁকড়ে ধরলে কক্ষনো পথ হারা হবে না। বিষয় দুটি হচ্ছে কিতাবুল্লাহ ও নবীর সুন্নত”। উক্ত হাদিসে রাসুল (সা) কিতাবুল্লাহ’র সাথে সুন্নতকে আঁকড়ে ধরতে বলছেন; হাদিসকে নয়। একথা স্মরণ রাখতে হবে রাসুল (সা) এর এমন অসংখ্য হাদিস আছে যেগুলো উম্মতের জন্য আমল যোগ্য নয়।

এর মাঝে কিছু হাদিস এমন আছে যেগুলো তাঁর (সা) নিজের জন্য খাস অথবা তাঁর হুকুমকৃত বিষয় নির্দিষ্ট সাহাবির সাথে খাস। আমাদের জন্য সেসব হাদিস আমল যোগ্য হবে, যেগুলো সাহাবায় কেরামগন (রা) নিজেদের জীবনে আমল করে বস্থবায়ন করে দেখিয়েছেন। এর নাম হচ্ছে “সুন্নাতি রাসুলিহ”!

কাজেই আমরা ইসলামি শরী’য়তে এমন অসংখ্য বিষয় দেখতে পাই, যেগুলো খুলাফায়ে রাশেদীন অথবা সাহাবায় কেরামের আমলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এগুলো বুঝার নাম হচ্ছে “ফক্বিহ ফিদ দ্বীন”।

এমন “ফক্বিহ ফিদ দ্বীন” থাকলে সর্বকালে কুরআন সুন্নাহর থেকে যুগের চাহিদা অনুসারে মাস’আলা বাহির করা সম্ভব। ফেতনাহ মুক্ত জীবন পরিচালনা সম্ভব। নতুবা সহিহ হাদিসের দুহাই দিয়ে সমাজে ফিতনাই ছড়ানো হবে। মাস’আলা মাসা’ইলে তালগোল লাগিয়ে জাতীকে বিভ্রান্ত করা হবে।

রাসুল (সা) বলেন “ مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ ” আল্লাহপাক যে যাকে পছন্দ করেন তাকেই ফেক্বহের ইলিম দেন”। স্থান কাল পাত্রভেদে ও ব্যক্তি বিশেষ মাস’আলা সমূহের বিশেষ বিশেষ ভিন্নতা আল্লাহ তা’আলার প্রিয় বান্দারাই বুঝে। এমন যোগ্যতার নাম হচ্ছে ফেক্বহা। এই ফেক্বহা হচ্ছে কোরআন হাদিসের নির্যাস।

লেখক, কলামিস্ট, খতিব ও ইমাম দারুল কোরআন ইসলামিক সেন্টার বার্সেলোনা, স্পেন

-এটি

ad