191920

মহিমান্বিত রমজান রেখে গেছে যে পয়গাম

আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রহ.।।
অনুবাদ: হাফেজ মাওলানা ইউসুফ নূর

(যথারীতি ঘটেছে রমজানের আগমন ও প্রস্থান। কিন্তু রেখে গেছে এক শাশ্বত আহবান। আল্লামা নদভীর দরদমাখা লেখায় তা বিদ্যমান। আশা করি বোঝার তওফিক দিবেন মাওলা রহমান)

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হল, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাক্বি হতে পারো।” আল বাক্বারা: ১৮৩

কুরআনের উপরোক্ত আয়াত দ্বারা রমজানের রোযা ফরজ হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তখনকার মুসলিম সম্প্রদায় এবং সকল যুগের মুসলিম উম্মাহ এই আয়াতের মাধ্যমে রোযার বিধানটি জানতে পেরেছে। এই আয়াতই কিয়ামত পর্যন্ত রোযার বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে অক্ষুণ্ণ থাকবে। এই আয়াতে রয়েছে অনেক সুক্ষ্ম তথ্য ও চিন্তা ভাবনার বিষয়। শাব্দিক অর্থের সাথে সাথে বিষয়াবলির উপর আলোকপাত করা হবে।

প্রথমেই ঈমানের স্মরণ

প্রথমে আল্লাহ “হে ঈমানদারগণ” বলে আমাদের ডাক দিয়েছেন। এটি বড়ই আকর্ষণীয় ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সম্বোধন। কষ্টকর বিধান পালনের জন্য প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তির প্রয়োজন হয়। আর এর উৎস হল ঈমান। তাই প্রথমে ঈমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ পূর্বক বলা হয়েছে, এই আহ্বান শুধু তাদের প্রতি যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহর সমস্ত বিধান মনে প্রাণে গ্রহণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছো, ইসলামের সীমায় প্রবেশ করেছো আর নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে তাকে আদেশ দাতা হিসেবে মেনে নিয়েছো এবং ঘোষণা দিয়েছো যে, আমরা সর্বাবস্থায় তাঁর সকল আদেশ মেনে চলব। আল্লাহর আদেশ লাভজনক বা বিনোদনমূলক কিনা তা দেখার বিষয় নয়। সহজ না কঠিন তাও চিন্তা করি না। কয়বার করতে হবে তাও ভাবি না। আমরা আল্লাহর গোলাম, তাঁর দাসত্বের শৃংখল আমাদের গলায় বেঁধে নিয়েছি স্বেচ্চায়। আমরা হুকুমের দাস, তিনি যাই আদেশ দিবেন তাই মেনে নেব।

আল্লাহ সার্বভৌম শাসক। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা। সকলের জীবন ও মরণ এবং মানসম্মান তাঁরই হাতে। তিনি যে কোন ভাষায় নির্দেশ দিতে পারতেন, এ অধিকার তাঁর ছিল। কিন্তু তিনি বললেন, “হে ঈমানদারগণ”। এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদের ঈমানী শক্তিকে আহ্বান করেছেন। ঈমানী চেতনাবোধকে শানিত করে একে সবকিছুর ভিত্তিমূল রুপে প্রতিষ্ঠিত করে বলেছেন, যারা সকল বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করে নিজেকে হুকুমের দাস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছো, তোমাদের বলছি শোন, ‘তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হল, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর’।

রোযার বিধানে মানব প্রকৃতির স্মরণ

মানুষের স্বভাব বড়ই বিচিত্র। আল্লাহ শুধু মানব প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন তাই নয় বরং এর প্রতি সর্বোচ্চ যত্নবানও থেকেছেন। এটা কোন বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং তাঁর প্রজ্ঞা ও অনুগ্রহই বলতে হবে যে, যখনই তিনি কোন আদেশ দিয়েছেন তখন এর অনুকূল পরিবেশও সৃষ্টি করে দিয়েছেন যাতে মানুষ তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে নেয়। অদ্ভুত ও অপরিচিত কোন বিষয়কে মানুষ স্বাভাবিকভাবে নিতে চায় না।

এটাও কি করতে হবে!! এই ভেবে সে বিচলিত হয়ে উঠে। কিন্তু যখন সে শুনে যে এটি নতুন কোন বিষয় নয়, আগের থেকে এমনটি হয়ে আসছে তখন সে আশ্বস্ত হয়। আগ্রহভরে তা শুনে, স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে এবং সহজভাবে মেনে চলে। এই জন্য আল্লাহ বলেছেন:
‘ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হল, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর’।
বিভিন্ন ধর্ম ও জীবনদর্শন এবং দেশ ও জাতির ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় যে , প্রত্যেক ধর্মেই রোযার বিধান ছিল। ইতিহাস ও ধর্মীয় গ্রন্থ সমূহে এই রোযার ধরণ ও বিবরণ সবিস্তারে উল্লেখ রয়েছে এবং তা এখানে বর্ণনা করার অবকাশ নেই।
আয়াতের শেষে আল্লাহ্ রোযার উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলছেন:
“যাতে তোমরা মুত্তাক্বি হতে পারো”।

তাক্বওয়ার অন্তর্নিহিত মর্ম

একটি বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রায় দেখা গেছে যে, কোন শব্দের ভাষান্তর ঘটলে অনেক ক্ষেত্রে তার আসল অর্থই হারিয়ে যায়।তখন সকলেই নিজের মত করে সেই শব্দের প্রয়োগ করতে থাকে। তাক্বওয়া ও মুত্তাক্বি শব্দ দু’টির ক্ষেত্রে ও তাই ঘটেছে। আমরা মুত্তাক্বি বলতে বুঝি বড় ইবাদতকারী,যিনি রাতে কম ঘুমান।না ঘুমালে আরো বড় মুত্তাক্বি! আমাদের সতত বিশ্বাস, যিনি সদা ইবাদতে লিপ্ত থাকেন,অধিক পরিমাণে নামাজ পড়েন এবংক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সন্দেহজনক বিষয় থেকে ও নিজেকে বাঁচিয়ে চলেন তিনিই মুত্তাক্বি। অধিকাংশ লোক এমনই মনে করে থাকে। তবে তাক্বওয়া আসলে আরবি শব্দ।আরবিতে তাক্বওয়ার অর্থ কিন্তু ইবাদত করা কিংবা বিনিদ্র রজনী কাটানো নয়। দিনে রোযা রাখা রাতে আমল করা ও সদা নামাজে মশগুল থাকাকে ও তাক্বওয়া বলা হয় না। তাক্বওয়া কোন ইবাদত নয়। তিলাওয়াত ও তাসবীহের নাম ও নয় ।

বরং আরবি ভাষায় তাক্বওয়া একটি স্বতন্ত্র গুণ,স্বতন্ত্র চেতনা ও স্বতন্ত্র যোগ্যতা। তাক্বওয়া একটি স্বভাবজাত অভ্যাস। আর আমাদের মাঝে এসব সৃষ্টি করার জন্যই রমজানের আগমন। আমাদেরকে
মুত্তাকি বানানোই রমজানের মিশন। লক্ষ্য করুন, ‘যাতে তোমরা মুত্তাক্বি হতে পারো’ এই
বাক্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও তা ব্যাপক অর্থবোধক।এতে অনেক বড় বিষয় বিবৃত হয়েছে। আসলে আল কুরআনের ছোট ছোট বাক্য ও অলৌকিক এবং বিস্ময়কর। এই আয়াত বুঝিয়ে দিল যে,তাক্বওয়া শুধু রমজানেই থাকবে আর রমজান শেষ হলে তাক্বওয়া ও বিদায় নেবে এমন নয়। কারণ তাক্বওয়া কোন আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়। তাক্বওয়া একটি সহজাত চেতনাবোধ। তাক্বওয়া মানে লজ্জাশীলতা ও শিষ্টাচার লালন ।ধরুন, কোন শিশু যদি ভদ্র ও মার্জিত পরিবেশ বড় হয় এবং ভাল শিক্ষা ও উন্নত দীক্ষা পায় তাহলে তার চলাফেরা ও মার্জিত হয়। বড়দের সম্মান বজায় রেখে চলে। বড়দের অপমান ও উপহাস তার থেকে কল্পনা ও করা যায় না। শিষ্টাচার তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।মানুষ তাকে চরিত্রবান ছেলে হিসেবে স্মরণ করে। ছাত্র মুরিদ ও কর্মচারী সর্বক্ষেত্রে সে উন্নত মানসিকতার পরিচয় দেয়। তাক্বওয়া ও এমন শিষ্টাচার ও চেতনাবোধের নাম। তবে এটি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত।

তাক্বওয়া হলো কোন কাজ করার পূর্বে তার পরিণাম
ভেবে দেখা, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টিকে বিবেচনায় রাখা, এক কথায় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ সামনে রাখা এবং দ্বীন ও শরীয়তের সম্মতি অনুসন্ধানে অভ্যস্থ হওয়ার নামই তাক্বওয়া।হযরত উমর(রা)। ফারুকে আজম তাঁর উপাধী। হযরত আবু বাকার (রা)এর পরে উনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবী।মুসলমানদের খলিফা ও আমিরুল মুমিনীন। কুরআন নাজিলের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। শুধু আরবিভাষী ছিলেন তা নয়, বরং তিনি যে পরিবেশে বড় হয়েছিলেন সেখানে তদানিন্তন যুগের নয় বরং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষার চর্চা হতো। যার সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও সর্বকালীন কার্যকারীতা সময়ের টেকসই মুদ্রার ন্যায় অব্যাহত আছে এবং থাকবে। তিনি ও কিন্তু সবসময় জ্ঞান আহরণের চেষ্টা করতেন।
কোন কিছু জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করতে সাহাবায়ে কেরাম লজ্জাবোধ করতেন না। সব সময় তাঁরা বিশুদ্ধ ইলম অর্জন ও জানার পরিধি বিস্তার করার চিন্তায় বিভোর থাকতেন।

হযরত উমর (রা) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা)কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বলুন তো, তাকওয়া কাকে বলে’? তিনি উত্তরে বললেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি কখনো এমন সরু রাস্তা দিয়ে চলেছেন যার দু’পাশেই সারিবদ্ধ কাঁটার ঝোপঝাড়? হযরত উমর বললেন, হাঁ, এমন হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা) বললেন, আপনি তখন কি করেছিলেন? উত্তরে আমীরুল মুমিনীন বললেন, ‘আমি তখন জামার আস্তীন গুটিয়ে নিজেকে সযত্নে রক্ষা করে পথ চলেছি,যেন কাঁটা বিধতে না পারে। ইবনু মাসউদ (রা) বললেন, ‘জি, এটাই তাক্বওয়া! জীবনের পথ পরিক্রমায় এমন কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং শরীয়ত যার অনুমোদন দেয় না।

যারা আরবি ভাষার ধারা সম্পর্কে জ্ঞাত নয় তারা এই আয়াতের গভীরতা সম্পর্কে চিন্তা করে না। তারা মনে করে রমজানে ২৯/৩০টি রোজা রাখার পরে ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই আমরা মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলাম। আল্লাহু আকবার! যিনি রমজান মাসে দিনে পানাহার বর্জন করেছেন, রাত তারাবীহ্ ও ইবাদাতে কাটিয়েছেন এবং একাধিকবার কুরআন খতম করেছেন তিনি অবশ্যই মুত্তাকী। তবে তার অর্থ এটা নয় যে, তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গেছেন, এখন তার ছুটি। বরং তার আসল পরীক্ষা শুরু হলো মাত্র।রমজানে হালাল খাবার ত্যাগ করেছেন। পুরো মাস দিনের বেলায় অভুক্ত থেকেছেন। এমনকি পানিও গ্রহণ করেন নি, যার ব্যপারে আল্লাহ বলেছেন, আমি পানি থেকেই সকল প্রাণীকে সৃষ্টি করেছি। -আল-আম্বিয়া: ৩০

ঘরের মধ্যে ছিল আল্লাহ প্রদত্ত বৈধ আয়ের খাবার, কেন খান নি? পানিও পান করেন নি কেন? পানাহারতো মানুষের মৌলিক চাহিদা। যৌনাচারও তার স্বাভাবিক আকাংখা। করার ক্ষমতা ও সক্ষমতা ছিল। তাও শুধু আল্লাহর হুকুমে আমরা তা ছেড়ে দিয়েছি। তাঁর নির্দেশ ছিল সুবহে সাদেক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত হালাল খাবার ও বৈধ যৌনাচার থেকে নিজেক বিরত রাখতে হবে। গলায় যাতে এক ফোটা পানি কিংবা এক শস্যদানা খাবারও না যায়। তাঁর হুকুমে যখন রমজানে বৈধ ও পবিত্র জিনিষ ছেড়ে দিতে পেরেছি এখন অপবিত্র জিনিসে হাত কিভাবে লাগাই!

অপবিত্র কাকে বলে? আমরা মনে করি ময়লা ও নাপাক কিছু মিশ্রিত হলেই অপবিত্র হয়। আসলে সব চেয়ে বড় অপবিত্র বিষয় হল আল্লাহর নাফরমানি। রমজানে আল্লাহর নির্দেশে পুত-পবিত্র ও হালাল পানাহার ছেড়ে দেয়া বান্দারা রমজানের পরে আল্লাহর হুকুম অমান্য করে পাপাচারে লিপ্ত হয় কিভাবে?
আমরা কিভাবে মিথ্যা কথা বলি ও মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে পারি? আমরা মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত কিভাবে দিতে পারি? আত্মসাত ও অপবাদ, চুরি ও দূর্নীতি, খুন ও নিপীড়ন কিভাবে আমাদের দ্বারা সম্ভব? যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থাকার চিন্তা- চেতনা ও অভ্যাস গড়ে তোলাই হল তাক্বওয়া!

তাক্বওয়া ইবাদত নয় স্বভাব:

ইবাদাত এক বিষয় আর তাক্বওয়া অন্য বিষয়। তাক্বওয়া হলো মেজাজ ও স্বভাবের নাম। আপনি দেখবেন একজন মানুষ ইবাদতগুজার, কিন্তু লেনদেনের বেলায় পার্থিব বিষয়ে ও রাগের সময়ে তার ইবাদতের কোন পাত্তাই থাকেনা। তাহলে বুঝতে হবে তার ভেতর তাক্বওয়া নেই। এমনিভাবে আমল করা কিংবা গুনাহ থেকে বাঁচাই তাকওয়া নয়। বরং এটা স্বভাবজাত অভ্যাসে পরিণত হওয়াকেই তাক্বওয়া বলে। তাক্বওয়ার গুণাবলী অর্জনই রোযার উদ্দেশ্য।

দেখুন, আল্লাহ এমনটি বলেননি যে, ‘যাতে তোমরা ইবাদতকারী হও’, ‘যাতে তোমরা শোকর আদায়কারী হও’, তোমরা প্রমাণ উপস্থাপনকারী হও। বরং আল্লাহ বলেছেন ‘যাতে তোমরা মুত্তাক্বি হও’। তাহলে তাক্বওয়ার অর্থ হচ্ছে, লজ্জাস্বভাব ও সমীহ ভাব। কোন কাজ করার পূর্বে আল্লাহর অভিপ্রায়ের কথা চিন্তা করা, শরীয়তের বিধান খেয়াল করা, এবং আল্লাহ ও রাসূল (সা:) এর নির্দেশাবলী স্মরণ করা এবং এটা স্বভাবে পরিণত হওয়াটাই তাকওয়া। ‘যাতে তোমরা মুত্তাক্বি হতে পারো’ এ বাক্যের মর্মও তাই। আর বিশ্ববাসীর তরে এটাই মাহে রমজানের শাশ্বত পয়গাম ও চিরন্তন আহবান।

অনুবাদক: ইমাম-খতিব ও মুবাল্লিগ,কাতার ধর্মমন্রণালয়, নির্বাহী পরিচালক,আলনূর কালচারাল সেন্টার কাতার।

-এটি

ad