191023

মসজিদ খুলে দেওয়ার শর্ত বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

সুফিয়ান ফারাবী।।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার শর্তসাপেক্ষে গত ৬ মে বাংলাদেশের সকল মসজিদ উন্মুক্ত করে দিয়েছে ধর্ম-মন্ত্রনালয়।

প্রশ্ন উঠেছে মুসল্লি শর্ত মেনে মসজিদে ঢুকবে তো? ইমাম-মুআজ্জিন ও মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের নিকট শর্ত বাস্তবায়ন করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শর্ত না মানা হলে মসজিদ বা গণজমায়েতের যেকোন স্থানই হতে পারে হুমকি স্বরূপ। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা কম। ধর্মের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ ভাবেন, মসজিদ তো পবিত্র স্থান, এখানে আবার কিসের করোনা?

আলেমরা বলছেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন না হলে মসজিদ কমিটি বা ইমামদের তেমন কিছু করার থাকে না।

তবে, মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে ইমাম ও মসজিদ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম মাওলানা ইউসুফ নূর মনে করেন, মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ভক্তি রয়েছে। তাদের কথা মান্য করার চেষ্টা করেন। সকলেই যদি সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক করেন, এবং ধৈর্য সহকারে বুঝাতে পারেন, তাহলে খুব সহজ হবে।

কিন্তু বিভিন্ন সময় দেখা যায়, একই মসজিদে নানাজন নানা বিষয়ে পরস্পর মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়ে কোন মতপার্থক্য চলবে না। সকলে সম্মিলিতভাবে বিষয়টিকে অনুধাবন করতে হবে। এবং জনমনে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

প্রশাসন, মসজিদ কমিটি ও ইমাম মুয়াজ্জিনরা একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে মসজিদকে পরিপূর্ণ নিরাপদ রাখতে পারেন।

বাইতুল আমান মাদরাসা মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রিন্সিপাল ও খতিব মুফতি নাজমুল হাসান বিন নূরী বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদগুলোর নিরাপত্তা কিছুটা হলেও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তার কারণ, লোকেরা অনেকে মনে করেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে সংক্রমন হবেনা।

এই ধারণা থেকে অনেকে মসজিদে মাস্ক গ্লাভস এগুলো খুলে রাখছেন। মানছেন না স্বাস্থবিধি। এতে করে মসজিদের অনেকেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই ইমাম-মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কতৃপক্ষকে দুটি বিষয়ে একটু কড়া নজরদারি ও কঠোর হতে হবে। ১- প্রত্যেক নামাজান্তে জীবানু নাশক দিয়ে মসজিদ, অযুখানা ও সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে।

২- মুসুল্লিদের হাতে এবং পায়ে স্প্রে করিয়ে মসজিদে প্রবেশ করানো যেতে পারে। তার পাশাপাশি ধর্ম মন্ত্রণালয় কতৃক যে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নে মসজিদ সংশ্লিষ্ট সকলকে পূর্ণ আন্তরিক হতে হবে। অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

ad