190705

মসজিদ উম্মুক্ত হচ্ছে কবে?

সুফিয়ান ফারাবী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা না মিললেও ধীরে ধীরে শপিং মল,গণপরিবহন ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো খুলে দিচ্ছেন সরকার। আগামী ১০ মার্চ খুলে দেয়া হবে সকল শপিং মল। ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পোশাকশিল্প কারখানা।

স্বাস্থ্যবিধি ও সর্তকতা অবলম্বনের শর্তে এমনটি করছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ইতিমধ্যেই যে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে, সে সকল স্থানে স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সর্তকতা মানা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি তদারকি করার জন্য জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।

কিন্তু মসজিদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি ধর্ম মন্ত্রণালয় বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পূর্বের নির্দেশনাটি এখনও বলবৎ রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ আওয়ার ইসলামকে বলেন, মসজিদ খুলে দেওয়ার বিষয়টি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছেনা। এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম, ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, ইসলামবিদ্বেষীরা মসজিদ খোলার অনুমতি দিবে না। বরং মুসলমানদেরকেই মসজিদ খুলতে হবে। যদি সরকার খুলে দেয়, তাহলে তো ভালো কথা। কিন্তু যদি না খোলে, তাহলে আগামী জুমায় আমরা একত্রিত হয়ে মসজিদে নামাজ পড়বো।

কারণ ভাইরাস শুধু মসজিদ থেকেই ছড়ায় না। আমরা দেখেছি, সারাদেশে শিল্প-কারখানাগুলো খুলে দেওয়া। দু-একদিনের মধ্যে শপিংমলও খুলে দেয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু মসজিদ বন্ধ রাখার কারণ কী? মসজিদ থেকে ভাইরাস সংক্রমণ হবে -এই যুক্তি ঘোড়া ও অর্থহীন।

মসজিদ খুলে দেওয়ার দাবি তুলে তিনি বলেন, সরকার যদি মান-সম্মান ঠিক রাখতে চায়, তাহলে আমরা তাদেরকে বলব আগামী শুক্রবার থেকে দেশের সকল মসজিদ খুলে দিন। সকল প্রকার প্রটেকশন-নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে মুসল্লিরা মসজিদে আসবেন। আর যদি সরকার এ ঘোষণা না দিতে পারে, তাহলে মুসল্লীরাই তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আল বাকী নদভী বলেন, যেহেতু ধীরে ধীরে সবকিছু খুলে দেয়া হচ্ছে। তাই আমরা প্রত্যাশা করব মসজিদও উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শপিং-মল খুলে দেওয়া হচ্ছে কিছু শর্তসাপেক্ষে। তন্মধ্যে শারীরিক দূরত্ব, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও যাবতীয় সুরক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কেউ মসজিদের দায়িত্ব না নেয়ার কারণে হয়তো সরকার মসজিদের বিষয়টি এখনও বিবেচনায় আনেন নি।

মসজিদ কমিটি যদি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তারা সকল ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, তাহলে আমার বিশ্বাস সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেবে।

ওলামায়ে কেরাম চাইলে মডেল মসজিদের নমুনা সরকারের সামনে উপস্থাপন করতে পারতেন। যেখানে আগত মুসল্লিদের সবধরনের স্বাস্থ্যবিধি ও সর্তকতা মেনে প্রবেশ করানো হবে। এরকম একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারলে, সরকার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিবে বলে আমি মনে করি।

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

Please follow and like us:
error1
Tweet 20
fb-share-icon20

ad