172882

সাংসদ বুবলীর সব পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল

আওয়ার ইসলাম: পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় নরসিংদীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলীর সব পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাংসদ বুবলীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নরসিংদী জেলা প্রশাসনের এক চিঠির ভিত্তিতে রোববার বুবলীর বিষয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) জরুরি সভা ডাকা হয়। বাউবি আওতাধীন বিএ পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

একই সঙ্গে জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমএ মান্নান। রোববার এক জরুরি সভা করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এসময় সভায় বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের ডিন, পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপাচার্য ড. এমএ মান্নান বলেন, বুবলী নিজে পরীক্ষায় অংশ নেননি। তার পক্ষে পরপর আটটি পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রক্সি পরীক্ষার্থীরা। তবে শেষ দিনের পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক প্রক্সি পরীক্ষার্থী। ঘটনাটি ধরা পড়া এবং এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরীক্ষা থেকে তাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনা তদন্তে বাউবি’র চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন- সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মুহা. জাহাঙ্গীর আলম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান উকিল, স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস ডিভিশনের পরিচালক ড. আনিস রহমান, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক আহমেদ সেলিম। তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন তৈরি করতে তিনদিন সময় দেয়া হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, এ বিষয়ে বুবলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে তোলা হবে এবং পরে তা বোর্ড অব গভর্নেন্সে যাবে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া সাংসদ বুবলী বাউবি’র আর কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন না। যারা প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ওই পরীক্ষার সমন্বয়ক। পরীক্ষা চলাকালে তিনি কখনো কেন্দ্রে যাননি। অথচ পরীক্ষা চলাকালে তার প্রতিদিনই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা। কলেজের পক্ষ থেকে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা হয়নি। কারো প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে জানালে তাকে ডুপ্লিকেট প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জিডি (সাধারণ ডায়েরি) কপি দিয়ে এভাবে পরীক্ষা নেয়া ঠিক হয়নি।

-এএ

ad