88536

‘আলেমদের যৌথ গবেষণায় নতুন নতুন সমস্যার সমাধান সম্ভব’

আওয়ার ইসলাম : ২১এপ্রিল, শনিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ এন্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার -এর উদ্যোগে ল’ রিসার্চ মিলনায়তনে নবীন গবেষক আলেমদের উপস্থিতিতে “যৌথ গবেষণা: প্রয়োজন ও কর্মকৌশল” শীর্ষক এক মতবিনিময়সভায় আলোচকরা বলেন, আলেমদের যৌথ গবেষণায় নতুন নতুন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

উপস্থিত গবেষক উলামায়ে কিরাম বলেন, কওমী মাদরাসায় শিক্ষিতদের মধ্যে অনেক উঁচু মানের গবেষক আলেম নিজেদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন; কিন্তু ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ ও জাতীয়ভাবে ইসলামী গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশী মুসলমানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে তাদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশ ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা নেই।

ফলে একাডেমিক কাজের বাইরে গবেষণাকাজে জাতি তাদের প্রজ্ঞাময় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন নতুন সমস্যা সমাধানে তাদের প্রজ্ঞা অনুযায়ী গ্রুপভিত্তিক গবেষণার ক্ষেত্রে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষাবিদ ও আইনবিদগণের সমন্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে অভাবিত সাফল্য এনে দিতে পারে।

মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী বলেন, আমরা সবাই দাবি করি, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কাজ করি, যদি তাই সত্যি হয়ে থাকে তবে আমাদের উচিত সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে ইসলামের সত্য, সুন্দর ও কল্যাণকে জাতির সামনে তোলে ধরার জন্য গবেষক আলেমদের জোটবদ্ধ হয়ে লক্ষ্যভেদী কর্মসূচি গ্রহণ করা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টার কার্যকর কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মেধাবী আলেমদের অংশগ্রহণ জাতির জন্য অনেক কল্যাণ বয়ে আনবে।

মুহিউদ্দীন কাসেমী আরো বলেন, যারা ইসলামী শরীয়া নিয়ে পড়াশোনা করেন, তাদের অনেক গবেষণামূলক কাজ করার অবকাশ আছে। বাংলা একাডেমি বিষয়ভিত্তিক পরিভাষা প্রকাশ করেছে। উসূলে ফিকহ, ফিকহ, হাদীস সম্পর্কে বিষয়ভিত্তিকপরিভাষাকোষ খুব প্রয়োজন, যা যৌথ ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব নয়। ল’ রিসার্চ সেন্টারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

ড. কামরুজ্জামান শামীম বলেন, সবমহলের কাছে উপযোগী ও প্রয়োজন পূরণে সক্ষম এমন গবেষণা কাজ করার জন্য কওমী, আলিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গবেষণা টিম তৈরী করলে গবেষণা কাজগুলো বেশি ফলপ্রসূ হবে।

মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, কুরআন ও হাদীস সংকলন, ফিকহী মাযহাব ও মাযহাবভিত্তিক গ্রন্থগুলো যৌথ গবেষণার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ফতোয়া আলমগীরি মোঘল আমলের যৌথ গবেষণার একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। অতএব জাতির প্রয়োজনে গবেষক আলেমদের যৌথ গবেষণা কাজে মনোনিবেশ করা সময়ের দাবি।

মাওলানা মনযূরুল হক বলেন, বাংলাদেশের যেসব আইন ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আলেম ও আইনবিদদের সমন্বয়ে শরীয়াসম্মত সমাধান প্রস্তাবের জন্য এখনই কাজ শুরু করা দরকার। সকল মুসলিম দেশেই এ ধরনের কাজ হচ্ছে।

মাওলানা আব্দুল আলিম বলেন, মেধাবী আলেমদের মেধা বিকাশের জন্য আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে। ল’ রিসার্চ সেন্টার-এর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একাজে উলামায়ে কিরাম সম্পৃক্ত হলে ইলমী গবেষণার পথ সহজ হবে।

মাওলানা আবদুস সাত্তার আইনী বলেন, আমাদের অনেকেই জাতিকে পথ নির্দেশনামূলক কাজের চেয়ে প্রকাশকদের চাহিদা মাফিক অতি সাধারণ কাজে বেশি মনোযোগী; কিন্তু প্রকৃত মেধাবী আলেমগণ যদি জাতিকে পথনির্দেশনামূলক উচুঁমানের অলাভজনক কাজে মনোনিবেশ না করেন, তাহলে শিক্ষা জগত থেকে আমরা আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো এবং ইসলাম গণমানুষের কাছে একটি ইবাদত ও অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্মে পরিণত হবে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশের বিশ্ব উম্মাহর কাছে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের জন্য আলেমদেরকে মৌলিক ও বিশ্বমানের গবেষণা কাজে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

মাওলানা ফয়সল আহমদ জালালী বলেন, বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনাও গবেষণার জন্য সবদেশের আলেমদেরই কার্যকর প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো থেকে আমরা উপকৃত হচ্ছি, কিন্তু আমাদের দেশে এধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা- নেই, ফলে জাতি আলেমদের উদ্ভাবনী মেধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ল’ রিসার্চ সেন্টার-এর এই সুন্দর উদ্যোগে মেধাবী আলেমদের সম্পৃক্ততা ইসলামী গবেষণার শুন্যতা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মুফতি কাজী হানীফ বলেন, আমাদের দেশের মাদরাসাগুলোতে শাস্ত্রীয় যেসব কিতাবাদি পড়ানো হয় এগুলোর পাঠ ও পঠন সহায়ক গ্রন্থের খুবই প্রয়োজন। ল’ রিসার্চ সেন্টার এব্যাপারে বিভিন্ন প্রকল্পগ্রহন করেছে, আমাদের কর্তব্য এসব প্রকল্পকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য একাজে অংশ গ্রহণ করা । তাহলে মাদরাসা শিক্ষা ও ইলমী জগত দ্রুত সমৃদ্ধ হবে।

মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব বলেন, সমকালীন বিষয়ে আলেমদের কাজ খুবই অপর্যাপ্ত অথচ আমাদের পূর্বসূরী আলেমগণ ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ এবং পা-িত্যে অগ্রগামী। আধুনিক এই বিশ্বে দীনকে উপস্থাপন করতে হলে সমকালীন বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে আলেমদেরও কাজ করতে হবে এবং আধুনিক সমস্যাগুলোসম্পর্কে আলেমদের জ্ঞান আহরণের বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, ইসলামী শরীআহ সম্পর্কে যেসব আপত্তি উত্থাপন করা হয় দলীল প্রমান ও বলিষ্ঠ যুক্তি দিয়ে সেগুলোকে খ-ন করতে হলে গবেষণার বিকল্প নেই। ল’ রিসার্চ সেন্টার আধুনিক ও শরীয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সেতুবন্ধনের মাধ্যমে সেই কাজটিই করছে।

আমাদের কর্তব্য, এ কাজকে গতিশীল করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। আমরা এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হলে জাতির কাছে আলেমদের মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাবে, আলেমগণ জাতিকে বুদ্ধিভিত্তিক দিক-নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবেন।

মাওলানা সাঈদ কাদির বলেন, আমাদের দেশে ইসলামী ভাবধারার শিশুসাহিত্যের প্রচ- অভাব রয়েছে। অথচ প্রতিটি মুসলিম দেশই তাদের শিশুদের ইসলামী ভাবধারায় গড়ে তুলতে শিশুসাহিত্য ও পঠনসামগ্রীর প্রতি গুরুত্বারোপ করে। ল’ রিসার্চ সেন্টার শিশুদের নৈতিকতা ও মননশীলতা গঠনে উদ্যোগী হলে শিশুরা উপকৃত হবে।

কাজী আবুল কালাম সিদ্দিক বলেন, ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টার আলেমদের সস্পৃক্ততায় ইসলামী গবেষণার যে দ্বার উম্মুক্ত করেছে এটি এই জাতির জন্য একটি সুখবর। ইতোপূর্বে নেয়া এধরনের বহু উদ্যোগ লক্ষচ্যুত হয়েছে। মেধাবী আলেমগণের উচিত হবে এ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক গবেষণাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে দীনি ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করা। আলোচনা শেষে কয়েকটি ব্যাপারে যৌথ প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ল’ রিসার্চ সেন্টার-এর নির্বাহী পরিচালক মাওলানা শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময়সভায় আলোচনা করেন, মুফতি কাজী মুহাম্মদ হানীফ, মাওলানা আব্দুল্লাহ আলফারুক, মাওলানা ফয়সল আহমদ জালালী, মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী, ড. মাওলানা কামরুজ্জামান শামীম, মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমী, এডভোকেট মুফতি আল-আমীন, মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব, মাওলানা কাজী আবুল কালাম সিদ্দিক, ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন, মাওলানা আবদুস সাত্তার আইনী, মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মাওলানা সাঈদ কাদির, মাওলানা নাজিদ সালমান, মাওলানা হুসাইন আহমাদ আব্দুল্লাহ, মাওলানা মাহবুবুল হাসান আরিফী, মাওলানা আইনুল হক কাসেমী, মাওলানা আব্দুল আলীম, মাওলানা ইফতিখার জামিল, মাওলানা সালমান মোহাম্মদ, মাওলানা আবুল কাসিম আদিল, মাওলানা ফারুক ফেরদৌস, মাওলানা মনযূরুল হক, মাওলানা তানভীর হাসান, মাওলানা শাহাদাত হুসাইন খান ফয়সাল, মাওলানা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

এসএস

আরো পড়ুন : মালয়েশিয়ায় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ইসলামি দলগুলো

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *