শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ২৪ মাঘ ১৪৩২ ।। ১৯ শাবান ১৪৪৭

শিরোনাম :
টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার ২৭ দিন পর মৃত্যু: শোকের ছায়া সিলেট-৩: অবিরাম ছুটছেন মাওলানা রাজু, উজ্জ্বল হচ্ছে জয়ের সম্ভাবনা জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারেন : তারেক রহমান আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত চালু করার আহ্বান ইউরোচ্যামের হাতপাখা বিজয়ী হলে কাউকে বাড়িছাড়া হতে হবে না: পীর সাহেব চরমোনাই বিজয়ী হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব: ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী ফিরোজ ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে পুলিশি হামলার নিন্দা মাওলানা আজহারীর ইশরাককে বিজয়ী করতে আহ্বান পীর সাহেব মধুপুরের চার দফা দাবিতে ফের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

বিজয়ী হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব: ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী ফিরোজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-১ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অঙ্গীকারের কথা জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এমপি প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম বর্তমানে মুজাহিদ কমিটির পটুয়াখালী জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি আমতলি উপজেলা ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন।

তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

মো. ফিরোজ আলম: আমি নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। সরকারি অফিসগুলোতে যাতে মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করবো। গ্রামের রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই বেহাল, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে। ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বেকার সমস্যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবো এবং যুব সমাজকে কর্মমুখী করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।

পাশাপাশি মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার, ইনশাল্লাহ।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

মো. ফিরোজ আলম: ইসলামী আন্দোলনের আমীর থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মী ভদ্র ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। আমরা অতীতেও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেছি, ভবিষ্যতেও সেভাবেই পালন করবো। আমাদের মুজাহিদ ভাইয়েরা নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন এবং তারা আচরণবিধি পালনে অত্যন্ত সচেতন। বিগত সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে কখনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেনি।

বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?

মো. ফিরোজ আলম: আমি জুলাই সনদ ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্ররা জীবন দিয়েছে, তাদের আত্মত্যাগের ফলেই এ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত জুলাই সনদে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মো. ফিরোজ আলম: পটুয়াখালী-১ আসন চরমোনাই পীর সাহেবের একটি শক্ত ঘাঁটি। তাই আমি বিশ্বাস করি, পটুয়াখালীতে ইসলামের বিজয় হবে। আমাদের রিজার্ভে লক্ষাধিক ভোট রয়েছে। ১২ তারিখ ইনশাল্লাহ হাতপাখার বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি থেকে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল মন্নান হাওলাদার, বাংলাদেশ জাসদ থেকে গৌতম চন্দ্র শীল, এবি পার্টি থেকে মো. আব্দুল ওহাব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. ফিরোজ আলম এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকে শহিদুল ইসলাম ফাহিম। ফলে এ আসনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে এবং নির্বাচনী মাঠ বেশ সরব হয়ে উঠেছে।

বরিশাল বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-১ জেলা সদরকেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১১ নম্বর এই আসনটি ভৌগোলিকভাবে পটুয়াখালী জেলার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। উত্তর দিকে বরিশাল জেলার সীমানা, দক্ষিণে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৪ আসন, পূর্বে বাউফল ও পশ্চিমে বরিশাল বিভাগের অংশবিশেষ দ্বারা বেষ্টিত এই আসনটি প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

নদী ও খালবেষ্টিত এই অঞ্চলের অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কৃষি, মৎস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং যোগাযোগ সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এখানকার মানুষ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-১ আসনে উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা—এসব ইস্যুই ভোটের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

পটুয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। বিপুল ভোটার সংখ্যার কারণে এই আসনটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-১ আসনে এবারের ভোটের লড়াই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলোই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-১ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে পাচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব। সূত্র: বাসস

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ