ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স ৫৪ বছর। যে আশা নিয়ে এদেশের মানুষ দেশ স্বাধীন করেছিলো, লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিল, পঙ্গু হলো। উদ্দেশ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের মাধ্যমে সে আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং একবার নয় ৫ বার চোরের দিক থেকে ফার্স্ট হয়েছে আমার সোনার বাংলাদেশ। আমার দেশের শ্রমিক, জেলে, তাতী, কামাড়, কুমাড়ের কষ্টার্জিত অর্থ ও প্রবাসীরা বিদেশ থেকে কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স অর্জন করে দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু যারাই ৫৪ বছর ধরে ক্ষমতায় এসেছে তারাই দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সুতরাং এসব পুরনো বউ আবার নতুন ঘোমটা নিয়ে হাজির হয়েছে। কোনোভাবেই এসব ফাঁদে পা দেয়া যাবেনা। তাহলে আবার সেই পুরোনো অভ্যাসে তারা ফিরে যাবে। সুতরাং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য ইসলামের পক্ষের মার্কা হাতপাখায় আস্থা রাখুন। হাতপাখার প্রার্থীকে বিজয়ী করুন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি'২৬) বিকাল ৩টায় পাথরঘাটা কেএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বরগুনা-২ আসনের হাতপাখার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন পীর সাহেব চরমোনাই।
তিনি বলেন, আমরা ৫ টি ইসলামী দল নিয়ে একটি নির্বাচনী সমঝোতা করেছিলাম। এতে ষষ্ঠ দল হিসেবে জামায়াত সম্পৃক্ত হয়। কিন্তু জামায়াত তাদের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দেশকে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। যার কারণে আমরা ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণের কথা চিন্তা করে হাতপাখাকে ইসলামের পক্ষের বাক্স হিসেবে সমুন্নত রেখেছি। আমরা ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স দিতে চেয়েছিলাম। জামায়াতের সাথে যুক্ত ১০ বা ১১ দল আছে, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ চালাবেনা এটা ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটও ইসলামের পক্ষের না। সুতরাং ইসলামের পক্ষের বাক্স এখনো একটাই। সেটা হলো হাতপাখার বাক্স।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, অনেকে আপনাদেরকে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে, অনেকে সবুজ বাংলার স্বপ্ন এবং ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা তা না বলতে পারলেও একথা বলতে চাই যে, আমরা জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা হাতপাখায় আস্থা রাখুন।
হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্য করে ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, চরমোনাই খবর নিয়ে দেখেন সেখানের সংখ্যালঘুরা মায়ের কোলে আছেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর অনেকে বাজারঘাট ও অন্যান্য দখলদারির কাজে লিপ্ত ছিলো, আমরা তখন সারাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পাহারাদারি করেছি। হাতপাখা বিজয়ী হলে আপনারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অধিকার ভোগ করতে পারবেন। সুতরাং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতপাখাকে বিজয়ী করুন।
সভাপতির বক্তব্যে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন আমি শাসক হতে চাই না, আপনাদের খাদেম হতে চাই। পীর সাহেব চরমোনাই আপনাদের খেদমত করার জন্য আমাকে মনোনীত করেছেন। আপনারা যদি আমাকে সমর্থন করেন, আমাকে সহযোগিতা করেন, আমাকে সাহস যোগান, তাহলে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই। প্রতিহিংসার বদলে সুস্থ ধারার রাজনীতি কায়েম করতে চাই। মামলাবাজির অবসান ঘটাতে চাই। সন্ত্রাস-চাদাবাদ রুখে দিতে চাই। একটি শিক্ষাবান্ধব ও কর্মসংস্থানবান্ধব উন্নত বরগুনা গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন রোড এক্সিডেন্ট হলে তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকলেও জেলেদের জন্য কোনো বিল পাশ হয়নি। আমি বিজয়ী হলে প্রথম বিল উত্থাপন করবো ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বিল, জেলেদের জন্য উপকূলে হাসপাতাল নির্মাণের ব্যবস্থা করবো যাতে তারা লোনাপানিতে দীর্ঘদিন থাকার পর সুচিকিৎসা পেতে পারে। তিনি বরগুনা-০২ আসনে ৩ বছরে ১ লক্ষ ছেলেমেয়েদের চাকুরির আশ্বাস, প্রত্যেক ইউনিয়নে কার্যকর গণশুনানি কেন্দ্র গঠনের আশ্বাস দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহের চিকিৎসার মান উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও বন্যা এবং নদী ভাঙন রোধে কার্যকর টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানান উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দেন মিজানুর রহমান কাসেমী।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক নাসির উদ্দীন খান, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী, বরগুনা-০১ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং টীমের সদস্য (বরগুনা-পটুয়াখালী) ও ইসলামিক স্কলার মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ, বরগুনা জেলার উপদেষ্টা মাওলানা ওমর আব্দুল কাদের পীর সাহেব বাওয়ালকর, বরগুন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুর সহ বরগুনা জেলা ও পাথরঘাটা উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আরএইচ/