বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি সিলেটে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু বরুড়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদের উদ্যোগে সিরাত সম্মেলন ২৭ আগস্ট কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নোটিশ রুহামা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত কনফারেন্স আগামীকাল ‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’ বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স আগমী শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা, কোনো অজুহাত চলবে না’ 

‘কওমি সিলেবাসের সংস্কার জরুরি তবে অতি আধুনিকায়ন নয়’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন কওমি সিলেবাস নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে সিলেবাসে সংস্কার ও পরিবর্তন জরুরি, তবে আলিয়া মাদরাসার মতো অতি আধুনিকায়ন নয়। কওমি মাদরাসার মৌলিকত্ব ও ঐতিহ্য ঠিক রেখে নিচের দিকে অন্তত অষ্টম-দশম শ্রেণী পর্যন্ত আধুনিক সিলেবাস তথা সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, আইসিটি, গণিত, ইংরেজি ইত্যাদি সংযোজন করাটা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুগ ও সময়ের চাহিদা মোতাবেক দারুল উলূম দেওবন্দের সিলেবাসও পরিবর্তন-পরিমার্জন হয়েছে। ভারতবর্ষে আগে যেই ‘নেজামে তালিম’ (শিক্ষাপদ্ধতি) চালু ছিল, তাতে হাদিসশাস্ত্রের ব্যাপকতা ছিল না। শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহ. প্রথম সিয়াহ সিত্তাহের (বিখ্যাত ৬টি সহিহ হাদিসের কিতাব) হাদিসগ্রন্থ উপমহাদেশের সিলেবাসে যুক্ত করেন। অর্থাৎ হাদিসশাস্ত্রকে যুক্ত করার মাধ্যমে শাহ ওয়ালিউল্লাহ এখানকার সিলেবাসে পরিবর্তন এনেছেন।

তিনি কওমি মাদরাসাকে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ১৮৬৬ সালে আল্লামা কাসেম নানুতবি ও হাজী আবেদ হুসােইন রহ. এর নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে ভারতের দেওবন্দে এই শিক্ষাধারার সূচনা হয়েছিল। এটি বর্তমানে গোটা পৃথিবীতে একটা স্বীকৃত শিক্ষাধারা। অসংখ্য যোগ্য আলেম এই ধারা থেকে বের হচ্ছেন। তবে যুগ চাহিদার প্রেক্ষিতে এই শিক্ষাধারার সিলেবাসে তাবদিলি (পরিবর্তন-পরিবর্ধন) আনা জরুরি। আর এ দায়িত্ব সে সকল আলেমদেরই পালন করতে হবে—যারা কওমি মাদরাসার তালিম-তারবিয়াত (শিক্ষা-দীক্ষা)-র সাথে যুক্ত রয়েছেন। বাহির থেকে কেউ নয়।

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আলিয়া মাদরাসার মতো কওমি মাদরাসার সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন ও অতি আধুনিকায়ন করা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হবে। যেমনটা আমরা আলিয়া মাদরাসা সমূহে দেখতে পাই। তাদের সিলেবাসে এতো পরিবর্তন আনা হয়েছে যে, তা জেনারেল সিলেবাসের প্রায় কাছাকাছি।

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কেউ মেডিকেল কলেজে পড়লে, সে হবে ডাক্তার। বুয়েটে পড়লে, হবে ইঞ্জিনিয়ার। আর কওমি মাদরাসায় পড়লে, হবে হুজুর। তবে আমি চেয়েছিলাম কওমি মাদরাসার সিলেবাসটা এমন হোক, যেন এখান থেকেও ছাত্ররা যদি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার রাস্তা বেছে নিতে চায়, সেটা যেন সে পারে। এজন্যই মূলত অন্তত দশম শ্রেণী পর্যন্ত ইতিহাস, আইসিটি, বিজ্ঞান-দর্শন ও গণিত-ইংরেজি তথা জেনারেল শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথা বললাম।

সাক্ষাৎকারে তিনি কওমি মাদরাসায় ফারসি ভাষা পাঠদান বিষয়ে আপত্তি তোলেন। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ফারসি ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই। এটা নিছক সময় নষ্ট। এর বিপরীতে আরবি ভাষা শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্বরোপ করা উচিত। কেননা তাফসির থেকে হাদিস—সব শাস্ত্রের কিতাবই আরবি ভাষায় রচিত। তাছাড়া আরবি ভাষা মুসলিমদের প্রধান ভাষাও বটে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ