নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজয়ী হাফেজে কুরআনদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’ নামে একটি বই উপহার দেওয়ার ঘটনা এবং সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে এমন একটি অনুষ্ঠানে ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বই উপহার দেওয়া দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। হারারির চিন্তাধারা ও লেখালেখির বিভিন্ন বিষয় ইসলামি আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তারা বলেন, এ বই কীভাবে হাফেজদের জন্য উপহার হিসেবে নির্বাচিত হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি হাফেজদের কাছ থেকে বইটি প্রত্যাহার করে সেখানে উপযুক্ত ইসলামি ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ দেওয়ার দাবি জানান তারা। ভবিষ্যতে সরকারি ও ইসলামি অনুষ্ঠানে বই বা উপহার নির্বাচনের জন্য একটি দায়িত্বশীল স্ক্রিনিং কমিটি গঠনেরও দাবি জানান হেফাজত নেতারা।
এদিকে সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তারা। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে ‘কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না’—এমন বক্তব্য উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, এ বক্তব্য মুসলমানদের ঈমান-আকিদার ওপর আঘাত।
তাদের ভাষ্য, পবিত্র কুরআন মানুষের রচিত কোনো সাময়িক আইনপত্র নয়; এটি আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব। মানুষের তৈরি সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য হলেও কুরআনের বিধানকে তারা চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেন।
হেফাজত নেতারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআনের মর্যাদা ও বিধান নিয়ে এমন বক্তব্য উদ্বেগজনক। তারা আইনমন্ত্রীকে এ বিষয়ে জাতির সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা, বক্তব্য প্রত্যাহার ও তওবা করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের চার হাফেজকে সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে বইসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।
এসএইচ/