আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতা হাফেজ মুহাম্মদ তাহির মাহমুদ আশরাফিকে দেওয়া ব্রিটিশ একটি ধর্মীয় সম্মাননা প্রত্যাহার করেছে আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবারির কার্যালয়। ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে তার ২০০৭ সালের একটি বক্তব্য নতুন করে সামনে আসার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাহির আশরাফিকে দেওয়া হয়েছিল ‘হিউবার্ট ওয়াল্টার অ্যাওয়ার্ড ফর রিকনসিলিয়েশন অ্যান্ড ইন্টারফেইথ কো-অপারেশন’। পাকিস্তানে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
১১ সেপ্টেম্বর নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫তম বার্ষিকীর দিনে আর্চবিশপ সারাহ মুলালি তাহির আশরাফির হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। এরপরই তার ২০০৭ সালের কয়েকটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসে।
এসব বক্তব্যে ওসামা বিন লাদেনকে ‘সাইফুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর তরবারি’ হিসেবে উল্লেখ করার কথা উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে লন্ডনের ল্যাম্বেথ প্যালেস তাহির আশরাফিকে দেওয়া সম্মাননাটি পুনর্বিবেচনা করে। ১৭ সেপ্টেম্বর সেটি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ল্যাম্বেথ প্যালেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাহির আশরাফির আগের কিছু মন্তব্য সামনে আসার পর সম্মাননাটি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হয় এবং তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে তাহির আশরাফির মুখপাত্র বলেছেন, তার পুরোনো বক্তব্যগুলো ‘সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে’ উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, ২০০৭ সালে সালমান রুশদিকে ব্রিটিশ সম্মাননা দেওয়ার প্রতিবাদে ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে ওসামা বিন লাদেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।
এদিকে সম্মাননা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর তাহির আশরাফির আগের বক্তব্য ও পাকিস্তানে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: ইউএনএ নিউজ
আইও/