শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
আমি নির্বাচিত হলে জনগণ সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা পাবে: মারুফ ইজতেমা মাঠের হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি ট্রাম্পের সাড়া নেই, কী করবেন সৌদি যুবরাজ? ইজতেমার মাঠে হামলাকারীরা সন্ত্রাসী ও খুনি, গ্রেপ্তার করুন: হেফাজত আমির খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের  চান্দিনায় খেলাফত মজলিসের ওলামা ও সুধী সমাবেশ সার সংকটের মূল কারণ সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা: পীর সাহেব চরমোনাই মসজিদে হারামে অবরোধমুক্তির নেতৃত্ব দেওয়া সৌদি মেজর জেনারেলের ইন্তেকাল ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় যুব কনভেনশন, প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামী যুব আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি

ট্রাম্পের সাড়া নেই, কী করবেন সৌদি যুবরাজ?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুথি যোদ্ধারা। এতে নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে রিয়াদ।

হুথিদের মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ট্রাম্প তাকে জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর অবস্থায় নেই যুক্তরাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সৌদি আরবকে সহায়তা করবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চাইছেন। তবে তিনি এটিকে তাৎক্ষণিকভাবে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে চায় ওয়াশিংটন।

তবে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথিদের হামলা আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রিয়াদ সফর করেছে। সফরকালে সৌদি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথি ইস্যু এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন এবং সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধ থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছে। কারণ, হুথিদের ওপর হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ইরান এসব উপগোষ্ঠীর কাছ থেকে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ মানুষ মনে করছে তারা হিজবুল্লাহ ও হামাসকে ছেড়ে দিয়েছে। হুথিদের ওপর হামলা হলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে? তারা কি সৌদি আরবে হামলা করবে? এ কারণেই ইরান হামলা করলে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে তারা এই জোট গড়ে তুলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর সৌদিরা যদি যুদ্ধে নামে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি তাদের অনুসরণ করবে? তারা সেটিই আশা করছে।’

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা এখনও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হুথিদের হামলা বাড়ায় পুরো অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর কথা ভাবছে সৌদি আরব। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তা ছাড়াই রিয়াদ এই অভিযান চালাতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।

তবে সৌদি আরব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত হুথিদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে না।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান চালাতে তারা প্রস্তুত। ওয়াশিংটন বর্তমানে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তা দিচ্ছে।

সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সময়। পরের বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর হাদি সরকারের পক্ষে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত জুলাইয়ে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর থেকে আবারও সৌদি আরব ও হুথিদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। 

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ