নিজস্ব প্রতিবেদক
টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে যারা নিরীহ মাদরাসা ছাত্র ও মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের সন্ত্রাসী ও খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। মাওলানা সাদের অনুসারীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ করে তাদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন হেফাজত আমির। একই সঙ্গে তাদের ওপর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজত আমির ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগের সাথী, মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, টঙ্গী ইজতেমা মাঠে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা ‘সন্ত্রাসী ও খুনি’। তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সাদপন্থীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে।
মাওলানা সাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে হেফাজত আমির বলেন, তার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা, আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং ইসলাম ও শরিয়তের বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বক্তব্যের কারণে তাবলিগের শান্তিপূর্ণ দাওয়াতি কার্যক্রম বিভক্ত ও বিতর্কিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জমহুর উলামায়ে কেরামের মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে শরিয়তের দৃষ্টিতে মাওলানা সাদের অনুসরণ করা জায়েজ নয়।
দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিরা মাওলানা সাদকে তার বক্তব্য সংশোধনের জন্য পরামর্শ ও উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন আল্লামা বাবুনগরী। তবে তিনি আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজের বক্তব্য সংশোধনে আগ্রহী হননি বলে দাবি করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেফাজত আমির বলেন, মাওলানা সাদ যতদিন তার কথিত ভুল বক্তব্য থেকে খালিস তওবা করে শূরায়ী নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, ততদিন তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
একই সঙ্গে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও কাকরাইলের মারকাজের কার্যক্রম আলেমদের তত্ত্বাবধানে শূরায়ী নেজামের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সম্মেলনে উপস্থিত ওলামা-মাশায়েখ ও অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুকরিয়া জানান আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
এসএইচ/