আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, দেশের সকল সীমান্ত ক্রসিং এবং বিমানবন্দরে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষায় মোতায়েন বাহিনী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণে সজ্জিত এবং তারা সব ধরনের হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি টোলোনিউজকে জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে একটি আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশের সব সীমান্ত ও বিমানবন্দরে প্রশিক্ষিত সীমান্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তারা সুসজ্জিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল। যেসব সীমান্ত জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে, সেসব এলাকাও সুরক্ষিত। আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে যেসব উদ্বেগ রয়েছে, তা ভিত্তিহীন।”
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নয়, সীমান্ত বাহিনীর প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতেও আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন, যাতে তারা দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফজল রহমান ওয়িয়া বলেন, “আফগানিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামো এখন অনেকটাই প্রাতিষ্ঠানিক। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ নেই। তবে কখনো কখনো যে নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ পায়, তা মূলত বাইরের হুমকির সঙ্গে সম্পর্কিত।”
অন্য এক বিশ্লেষক জাবার আকবরী বলেন, “ইসলামি আমিরাতের নেতৃত্ব যত বেশি সীমান্ত পরিদর্শন করবেন এবং সীমান্ত বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রে শক্তিশালী করবেন, ততই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে সীমান্ত আগ্রাসন বা বহিরাগত দাবি প্রতিহত করতে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।”
আফগানিস্তান বর্তমানে ২০টি প্রদেশ ও ৯০টি জেলার মাধ্যমে ছয়টি দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে ঐতিহাসিক ‘ডুরান্ড লাইন’ দিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক আলোচনা ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
এনএইচ/