নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বড় অঙ্কের লোকসান গুনেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত ব্যাংকটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক ২০ টাকা ৪১ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬২ পয়সা। তখন ব্যাংকটির নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। এই শেয়ার সংখ্যার বিপরীতে চলতি বছরের নয় মাসে ব্যাংকটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবেও লোকসানের চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ টাকা ৩৯ পয়সায়। আর সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২৪ পয়সা। এ প্রান্তিকে ব্যাংকটির মোট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৯৭০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২০ পয়সা।
লোকসানের প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির সম্পদমূল্যেও। গত সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৬৪ পয়সায়। গত ডিসেম্বর শেষে এ মূল্য ছিল ৪৪ টাকা ৫২ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে ২০ টাকা ৮৮ পয়সা।
এদিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে এ সূচক দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ১২ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ধনাত্মক ১২ টাকা ৪৪ পয়সা।
লোকসান বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যাংকটি জানিয়েছে, বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় না আসায় আর্থিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, ব্যাংকসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অর্থ আত্মসাৎ এবং সর্বশেষ প্রান্তিকে আমানত প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় লোকসান বেড়েছে।
ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা ব্যয় বেড়ে যাওয়াও লোকসান বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এসব কারণে ব্যাংকের নগদ অর্থের প্রবাহও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।
আইও/