বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের জন্য জুলাইয়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের উদ্যোগ হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রেরণের নির্দেশ ইসির ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে’  ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩০৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালের নিকটে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ইরানের ‘সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল’ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

ইসলামবিরোধী কবিতা লিখে নির্বাসিত, ৫০ বছরেও ফিরতে পারেননি দেশে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইসলাম বিদ্বেষী কবি হিসেবে পরিচিত কবি দাউদ হায়দার জার্মানির বার্লিন শহরে নির্বাসিত অবস্থায় মারা গেছেন গত শনিবার। ইসলামবিরোধী কবিতা লেখার কারণে তাকে প্রায় ৫০ বছর আগে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। পাঁচ দশকে দেশে ক্ষমতার নানা পালাবদল হয়েছে, কিন্তু কোনো সরকারই ইসলাম বিদ্বেষী লেখককে দেশে ফেরত আসার অনুমতি দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়নি। 

সত্তরের দশকের শুরুর দিকে দাউদ হায়দার দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংবাদে তার কবিতা ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ প্রকাশিত হয়। এই কবিতায় তিনি প্রচণ্ডভাবে ইসলাম এবং ইসলামের নবীকে কটূক্তি করেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় মামলা। শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন।   

এক পর্যায়ে শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে আটক করে। পাঠানো হয় কারাগারে। তবে সেখানেও তিনি কয়েদিদের আক্রমণের শিকার হন। অবশেষে ২১ মে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

অনেকটা খালি হাতেই তাকে দেশ ছাড়তে হয়। কবি দাউদ হায়দার লিখেছিলেন, সে সময় তার কাছে ছিল মাত্র ৬০ পয়সা, কাঁধে ঝোলানো একটি ব্যাগে ছিল কবিতার বই, দুজোড়া শার্ট, প্যান্ট, স্লিপার আর টুথব্রাশ। তার কোনো উপায় ছিল না। 

দেশ থেকে বহিষ্কারের পর দাউদ হায়দার ১৩ বছর কলকাতায় ছিলেন। পরে জার্মানির নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসের সহযোগিতায় ১৯৮৬ সালের ২২ জুলাই জার্মানি চলে যান। তখন থেকেই তিনি জার্মানির বার্লিন শহরে বসবাস করে আসছিলেন। মাঝে মধ্যে কলকাতায় যেতেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দাউদ হায়দারই প্রথম লেখক, যাকে লেখালেখির কারণে নির্বাসনে যেতে হয়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কবি দাউদ হায়দার নির্বাসনে ছিলেন। এই সময়ে তার আর মাতৃভূমিতে ফেরার সুযোগ হয়নি। দেশের কোনো সরকার তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর কোনো উদ্যোগই নেয়নি।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ