শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাজধানীতে বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন  বৃষ্টি নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে সরকার: আমিরে মজলিস জুহাইমানের দখলে কাবা, দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল জুমার খুতবা দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন বাবুনগর মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক মজলিসের জামিয়া কাসিমুল উলূমের ৮৫তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ৭ নভেম্বর   আওয়ার ইসলামের সিরাত প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ, পুরস্কার পাচ্ছেন ৭৫ জন ‘শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রতিভা ও আগ্রহ চিহ্নিত করে সামনে এগোতে হবে’

আস-সুন্নাহর পুঁজিতে সেলুন ব্যবসায় সাবলম্বী হওয়া নওমুসলিম মুজাহিদের গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশিষ্ট দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনের গল্প। এমনই একজন মুজাহিদ। তিনি নওমুসলিম। বিদেশফেরত এই যুবক কীভাবে আস-সুন্নাহর পুঁজি দিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন এবং এখন কীভাবে মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন সেই গল্প তুলেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। ফেসবুকে দেওয়া শায়খ আহমাদুল্লাহর পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-

একটা সেলুন থেকে মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন—বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে।

সেলুনটির মালিক নওমুসলিম মোহাম্মদ মুজাহিদ। পূর্বনাম হিরনচন্দ্র শীল।

অমুসলিম অবস্থায় ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে জীবিকার তাগিদে তিনি পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। সেখানেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

এর আগে থেকেই কুরআন, হাদিস ও সাহাবিদের জীবনী পড়ে তিনি নিজেকে ইসলামের জন্য প্রস্তুত করছিলেন।

ওমানে মুজাহিদের দিন ভালোই কাটছিল। আকস্মিক ভিসা জটিলতায় তাকে দেশে ফিরতে হয়। পড়েন আর্থিক সংকটে।

এদিকে ইসলাম গ্রহণের খবরে পরিবারও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বাধ্য হয়ে তিনি মাত্র আট হাজার টাকা বেতনে একটি কোম্পানিতে চুল কাটার কাজ নেন। এই সময়, ২০২১ সালে বিয়ে করেন এক হাফেজা নারীকে।

চাকরির মেয়াদ শেষ হলে ফিরতে হয় নিজ এলাকায়। সেখানে অন্য একটি সেলুনে কাজ নেন তিনি। মাসে উপার্জন করেন ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।

এই সামান্য বেতনে  স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে টিকে থাকা ছিল অনেক কঠিন।

এ সময় দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পের খোঁজ পান তিনি। আবেদন করেন একটি সেলুনের জন্য। যাচাই-বাছাইয়ের পর গৃহীত হয় তার আবেদন।

৬ ধাপে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয় তাকে। এই টাকায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের জনবহুল চর লরেন্স বাজারে গড়ে তোলেন একটি সেলুন দোকান। এই সেলুনের মাধ্যমে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। সেলুনে তার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন আরো একজন।

মুজাহিদ তার সেলুনে দাড়ি কাটেন না, ক্লিন শেভ করেন না। তারপরও সেলুনের এই আকর্ষণীয় আয় প্রমাণ করে—কেউ গুনাহ থেকে বাঁচতে চাইলে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ