বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে আজও চলছে শ্রমিক বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া যেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না ‘শিক্ষার্থীদের জীবনে সিরাতের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে’ দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর স্মল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ভর্তি চলছে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিষদের শপথ গ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে ‘হাদিস’ বলা সেই কর্মকর্তাকে নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেশের জন্য শুধু আমরাই কথা বলছি, চারদিকে নীরবতা: মাওলানা ফজলুর রহমান ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি রাজধানীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

যেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে বান্দার সরাসরি যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো দোয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সুরা আল-মু’মিন: ৬০)

কিন্তু অনেক সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল তাৎক্ষণিকভাবে না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। মনে করেন তাদের দোয়া কবুল হচ্ছে না। আমাদের জেনে রাখা জরুরি, কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক নিয়ম মেনে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা কখনোই বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। তবে দোয়া কবুলের পদ্ধতি ও প্রকাশ বিভিন্ন রকম হতে পারে, যা বান্দার জন্য সর্বাবস্থায় কল্যাণ বয়ে আনে।

দোয়া কবুলের তিন রূপ

আমরা আল্লাহর কাছে যা চাই, হুবহু সেটাই পেয়ে যাওয়াকে অনেকে দোয়া কবুলের একমাত্র উপায় মনে করেন। এই ধারনাটা সঠিক নয়। দোয়া বিভিন্ন উপায়ে কবুল হতে পারে। নিচে তিনটি উপায় বর্ণনা করা হলো—

১. হুবহু কাঙ্ক্ষিত বিষয় লাভ: বান্দা আল্লাহর কাছে যা চেয়েছে, আল্লাহ তাকে হুবহু সেটিই দান করেন।

২. অধিক জরুরি ও কল্যাণকর বস্তু প্রদান: বান্দা নিজের জন্য যা চেয়েছে, তার চেয়েও বেশি প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় হয়তো সে চাইতে ভুলে গেছে বা জানত না; আল্লাহ তাকে সেই অধিক উত্তম বস্তুটি দান করেন। যেমন সন্তান বাবা-মায়ের কাছে ক্ষতিকর কিছু চাইলে মা-বাবা তা না দিয়ে তার চেয়ে কল্যাণকর কিছু কিনে দেন, যা সন্তানের চাওয়া পূরণেরই অংশ।

৩. আখেরাতের জন্য প্রতিদান সঞ্চয়: দুনিয়াতে হুবহু কিছু না দিয়ে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর পর আখেরাতে এর বিনিময়ে বিপুল সওয়াব ও মহা-প্রতিদান দান করেন।

সুতরাং যা চাইলাম তা তৎক্ষণাৎ না পেলেই ‘দোয়া কবুল হয়নি’ এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। মুস্তাদরাকে হাকিমসহ হাদিসের বর্ণনায় দোয়ার এই বিভিন্ন উপায়ের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

দোয়া কবুলের প্রধান পূর্বশর্ত হালাল উপার্জন

দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সবচেয়ে মৌলিক ও প্রধান শর্ত হলো জীবনযাত্রায় হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্য ভক্ষণ বজায় রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যার দেহাংশ বা সম্পদ হারাম দিয়ে গঠিত ও পালিত, তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? তাই দোয়ার সুফল পেতে হলে উপার্জন ও খাদ্য সম্পূর্ণ হালাল হতে হবে।

সুন্নাহসম্মত দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নিয়মাবলী

কেবলামুখী হওয়া: যে কোনো দিকে মুখ করে দোয়া করা জায়েজ হলেও কেবলামুখী হয়ে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পায়।

দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা: দোয়ার সময় মনে কোনো সংশয় না রেখে পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ অবশ্যই এটি কবুল করবেন। ‘কবুল হতেও পারে, নাও পারে’— এমন দ্বিধাগ্রস্ত মনে দোয়া করা যাবে না।

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ: দোয়া শুরু করার পূর্বে মহান আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা জ্ঞাপন করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করে তারপর নিজের চাহিদা পেশ করা সুন্নাত।

দুই হাত তুলে প্রার্থনা করা: যদিও হাত তোলা ছাড়াও দোয়া করা যায়, তবে দু'হাত তুলে দোয়া করা দোয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদব। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত লজ্জাশীল ও সম্মানিত; বান্দা যখন দু'হাত তুলে দোয়া করে, তখন তা খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।

আল্লাহর গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) ব্যবহার: দোয়ার মধ্যে আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম, যেমন— ‘ইয়া আল্লাহ’, ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম’, ‘ইয়া রহমান’, ‘ইয়া রহিম’ ইত্যাদি নাম ধরে ডেকে আকুতি জানানো উচিত।

তাড়াহুড়া না করা ও ধৈর্য ধারণ

দোয়া করার পর ফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া বা অস্থিরতা প্রকাশ করা যাবে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া ততক্ষণ কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বা বলে, ‘আমি তো অনেক দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল হলো না’। শর্ত মেনে দোয়া করার পর ফলাফলের বিষয়টি পূর্ণ ভরসার সঙ্গে আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত ও স্থানসমূহ

নির্দিষ্ট কিছু সময়ে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা দ্রুত কবুল করেন। যেমন: ভোর রাতে বা তাহাজ্জুদের সময়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর। আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে।
বৃষ্টি বর্ষণের সময়। সফর বা ভ্রমণের অবস্থায়।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ