আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর। সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে সশস্ত্র বিদ্রোহী জুহাইমান আল-উতাইবির নেতৃত্বে একদল লোকের আকস্মিক দখলদারির ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল পবিত্র এই মসজিদ। এর মধ্যে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হয় মুসলিম বিশ্ব। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে; মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হয়নি জুমার নামাজ, বন্ধ থাকে মক্কা থেকে জুমার খুতবার সম্প্রচারও।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে প্রতি শুক্রবার মক্কা থেকে জুমার খুতবা সম্প্রচার করা হতো। ১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর (৩ মুহাররম ১৪০০ হিজরি) শুক্রবারও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা মক্কা থেকে খুতবা শোনার অপেক্ষায় ছিলেন। এর আগের দিন সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, মসজিদুল হারাম জুহাইমানের অনুসারীদের দখলমুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে মক্কা থেকে কোনো সম্প্রচার পাওয়া যায়নি। মসজিদুল হারামেও অনুষ্ঠিত হয়নি জুমার নামাজ।
এর পরিবর্তে সৌদি বেতারে মদিনার মসজিদে নববির ইমাম শায়খ আবদুল আজিজ বিন সালেহের খুতবা সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মসজিদুল হারাম দখলকারীদের অপরাধী আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা পবিত্র স্থানের মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে এবং ইবাদতরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় সৌদি আলেমদের নীরবতা নিয়েও মুসলিম বিশ্বে বিস্ময় তৈরি হয়।
জুহাইমানের অনুসারীদের কাছ থেকে মসজিদুল হারাম পুনরুদ্ধার ও পরিশুদ্ধ করার পর ১৮ মুহাররম ১৪০০ হিজরি, শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে সেখানে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন খুতবা দেন মসজিদুল হারামের তৎকালীন ইমাম শায়খ আবদুল্লাহ খাইয়াত (রহ.)। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের বিরতির অবসান ঘটে এবং পবিত্র মসজিদে আবারও স্বাভাবিক জুমার জামাত চালু হয়। সূত্র: হারামাইন আর্কাইভ
এসএইচ/