শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


মহারাষ্ট্রের ‘লাভ জিহাদ’ আইন বম্বে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মহারাষ্ট্রে কথিত জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে রাজ্য সরকারের প্রণীত ‘মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট-২০২৬’, যা ‘লাভ জিহাদ আইন’ হিসেবে পরিচিত, তার সাংবিধানিক বৈধতা বোম্বে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমী।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তার পক্ষে বোম্বে হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করা হয়। আইনজীবী মতিন শেখ আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড ইজাজ মাকবুল। এতে আইনজীবী মতিন শেখ, শাহিদ নাদিম ও সাইফ জিয়া কাজ করেছেন।

মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমী বলেন, আইনটি গত ২৮ আগস্ট থেকে পুরো মহারাষ্ট্রে কার্যকর হয়েছে। তবে আইনটি বই আকারে মুদ্রিত হয়ে বাজারে না আসায় আদালতে আবেদন করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে মারাঠি ও ইংরেজি ভাষায় আইনটি প্রকাশিত হওয়ায় এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনের দ্রুত শুনানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আইনটিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর সাজা ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা সংবিধানবিরোধী। ভারতের সংবিধান নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম পালন এবং ধর্ম প্রচারের অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মান্তর ও আন্তঃধর্মীয় বিবাহকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিধিনিষেধ ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘লাভ জিহাদ’ আইন প্রণয়নের প্রকৃত উদ্দেশ্য হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে আন্তঃধর্মীয় বিয়ে ঠেকানো। এটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এ ধরনের আইনের মাধ্যমে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আইনটির ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে খুশি করতে সংখ্যালঘুবিরোধী মনোভাব থেকে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

রিটে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গোপনীয়তার অধিকার-সংক্রান্ত রায়েরও উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। অথচ মহারাষ্ট্রের নতুন আইনে ধর্মান্তরের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি এবং এ বিষয়ে প্রকাশ্য নোটিশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করার পর মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমী বলেন, আইনটি অসাংবিধানিক এবং এর কারণে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোনো গবেষণা বা ব্যাপক ধর্মান্তরের গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তি ছাড়াই সংখ্যালঘুবিরোধী মনোভাব থেকে এমন আইন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শান্তিপূর্ণ রাজ্য মহারাষ্ট্রে এ ধরনের আইনের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইনটিতে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যাতে তৃতীয় কোনো পক্ষও এফআইআর করতে পারে। অথচ অভিযোগকারী ব্যক্তি নিজে ধর্মান্তরিত হচ্ছেন না বা কাউকে ধর্মান্তরিতও করছেন না। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের দায়ও অভিযুক্তের ওপর চাপানো হয়েছে। অথচ ফৌজদারি মামলায় সাধারণত অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকে।

মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমী জানান, কথিত জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড়, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, কর্ণাটক, ওডিশা, হিমাচল প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র—এই ১২টি রাজ্য আইন করেছে। এসব আইনের সাংবিধানিক বৈধতাও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানীর নির্দেশনায় ভারতের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে এ বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলাটিতে প্রথমে আবেদনকারী ছিলেন গুলজার আজমী। তার মৃত্যুর পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সহসভাপতি মাওলানা সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানী আবেদনকারী হয়েছেন।

এ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের আইন সহায়তা কমিটি। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন সিভিল রিট পিটিশন নম্বর ৪০/২০২৩ চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ