সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


নেপালে মানবসেবায় 'আল মারকাজুল ইসলামী'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

নেপাল বর্তমানে তার ইতিহাসের এক কঠিন ও ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আকস্মিক এই দুর্যোগে বহু পরিবার আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং অপেক্ষা করছে একটু সহায়তা ও স্বস্তির আশায়।

দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আল মারকাজুল ইসলামী মানবিক সহায়তার এক বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আল মারকাজুল ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল নেপালে পৌঁছে।

নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা নেওয়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।

৫ হাজার পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ:

প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্যাকেজ বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক
    - স্যানিটারি ন্যাপকিন
    - শিশুদের জন্য ডায়াপার
    - ২৫ কেজি ওজনের ফুড হ্যাম্পার

এই মানবিক সহায়তার প্যাকেজগুলো প্রস্তুত ও বিতরণ কার্যক্রমে নেপালের হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই সম্মিলিত প্রয়াস মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় ধাপে পুনর্বাসনের উদ্যোগ:

ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন উদ্যোগ। দ্বিতীয় ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও প্রয়োজনীয় কিচেন সামগ্রীসহ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

ধ্বংস হয়ে যাওয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ পুনর্নির্মাণ:

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় অবকাঠামো পুনর্গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যাওয়া একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে।

শুধু ভবন নির্মাণ নয়; ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিকভাবে ৫০ জন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ গার্ডিয়ানশিপ গ্রহণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে দুর্যোগের কারণে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে।

মানবতার সেবায় এক অনন্য বার্তা:

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আল মারকাজুল ইসলামীর এই উদ্যোগ শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়; এটি বিপন্ন মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের এক বাস্তব প্রতিফলন। নেপালের হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে—মানবতার কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই; বিপদের সময় মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

আল মারকাজুল ইসলামী আশা করে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজারো দুর্গত মানুষের মুখে আবারও হাসি ফুটবে, তারা ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সাহস ও আশার আলো।

মানবতার পাশে, বিপন্ন মানুষের পাশে—আল মারকাজুল ইসলামী।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ