বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


মানবতার শ্রেষ্ঠ ফুল মুহাম্মদ (সা.)

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: এআই

|| হাসনাইন সারওয়ার ||

মুহাম্মদ—মধুমাখা নাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আরব-আজমে সমান জনপ্রিয়। ভালোবাসি এই নাম ও নামের মহান মানুষটিকে। ৫৭১ খ্রিস্টাব্দ, পবিত্র রবিউল আউয়ালের কোনো এক সোমবারের চাঁদনী রাতে পৃথিবীর বুক আলো করে তিনি আগমন করেন। সিরাজাম মুনিরা, বাশির ও নাযির হয়ে আবির্ভূত হন। তিনি এসেছিলেন বলেই পৃথিবী হেসেছিল, দূর হয়েছিল জগতের সব অন্ধকার। নানান অপকর্মে লিপ্ত, বর্বর মরু আরবদের ভাগ্য যেন আলোর ঝলকানির মতোই ঝলসে উঠল। তিনি ছিলেন সকল গুণের আধার, পুণ্যের বাহার। যেসব আলোর পাখি—মহান সাহাবাগণ—মুহাম্মদী বাগানে এসে গেয়েছিল ঈমানের গান, তারা ছিল সর্বদাই তাঁর জন্য নিবেদিতপ্রাণ। রাদিআল্লাহু আনহুম।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোর সম্রাট। তাঁর ভালোবাসার নূরে ডুব দেয়া যায়, কিন্তু কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁর পুরো জীবন কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের জন্য আদর্শ, অনুসরণীয়, অনুকরণীয়। তাঁর পবিত্র হায়াত আগত-অনাগত সকলের জন্য রহমত। তাঁর জীবনের একেকটি অধ্যায়—একেকটি উপাখ্যান যেন। যেন একেকটি ইতিহাস।

জানি—তাঁর সোনাঝরা গুণেভরা কর্মময় বর্ণাঢ্য স্বপ্নীল পবিত্র জীবন মুখের ভাষা ও লেখনীতে ফুটিয়ে তোলা দুঃসাধ্য প্রায়। তবুও প্রাণপ্রিয় মানুষটির মহাসাগরতুল্য বিস্তৃত জীবন থেকে বিন্দুসম ফুটিয়ে তোলার ক্ষুদ্র প্রয়াস। হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা ও প্রীতিমিশ্রিত আবেগমাখা ভঙ্গিমায়।

ভালোবাসা মানে না কোনো বাধা কিংবা সীমানা। মুসলমানদের শ্রদ্ধা, আবেগ আর ভালোবাসার সুউচ্চ শিখরে যার স্থান—তিনিই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পৃথিবীর প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানদের মধ্যে অনেকেই নিজের কিংবা সন্তানের নামের আগে প্রিয় নবীর নাম স্থাপন করে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটায়। নিজেকে প্রিয় নবীর উম্মত এবং মুসলমান হিসেবে ঘোষণা দেয়। পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কত নেতা! কিন্তু ভালোবাসার এ নজির অনন্য—যুগ-যুগান্তর পরও আজও মানুষ তাঁকে এমন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রেখেছে। তিনি প্রতিটি মুমিন-মুসলিমের অন্তরে কিয়ামত অব্দি এভাবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রিয় নবী বাল্যবয়সেই দেশ, জাতি ও মানবতার শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিয়ে ভাবতেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন সুখী-সুন্দর, শান্তিময় একটি পৃথিবী গড়ার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে গড়ে তোলেন সমাজ সংস্কারমূলক সংগঠন হিলফুল ফুজুল। অংশ নেন সমাজের সার্বিক কল্যাণকর কাজে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, ধনী-গরিব—সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।

এমন কোনো পথ ও দিক নেই যেখানে রেখে যাননি স্মরণীয় অবদান। সর্বক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সমুজ্জ্বল; আপন মহিমায় ভাস্বর। তাই তো অমুসলিমদের মুখ থেকেও উপচে পড়ে তাঁর স্তুতিগাথা। সারা বিশ্বের সেরা লেখক, গবেষক, দার্শনিক, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও বিজ্ঞানীরা তাঁকে শ্রেষ্ঠ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তাঁর সোনার চেয়ে দামি মহান বাণী আজও ছড়িয়ে আছে একান্ন কোটি বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই পৃথিবীজুড়ে। তিনি নখ-চুল কাটা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার থেকে বিশ্বপরিচালনার সর্বোত্তম মডেল। খাওয়ার ম্যানার থেকে পবিত্রতা, বৃক্ষরোপণ থেকে পানি সংরক্ষণ—এমনকি দুনিয়া-আখেরাতের সমস্ত বিষয়ের দিয়ে গেছেন সহজ সমাধান। সর্বশেষ নবুওয়াতের স্বর্ণমিনার ষোলকলায় পূর্ণ করে, পৃথিবীর মুমিন-মুসলিমকে এতিম করে পাড়ি জমান মহান বন্ধু, রফিকে আ'লার পবিত্র সান্নিধ্যে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ