মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নোটিশ রুহামা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত কনফারেন্স আগামীকাল ‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’ বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স আগমী শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা, কোনো অজুহাত চলবে না’  ২১০ মাদরাসা পরিচালককে নিয়ে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন মহানবী (সা.)-এর আদর্শে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ প্রতিষ্ঠান-পরিচালক তৈরিতে ইতমিনান বোর্ডের সাত দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ

ছাত্র ভাইয়েরা! বছরের শুরুর নসিহতগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করুন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

|| মুহাম্মদ উসামা হাবীব ||

রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাস থেকে শুরু হয়েছে সারাদেশের কওমি মাদরাসার নতুন শিক্ষাবর্ষ। এই সময়ে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট সবাই উৎসাহ ও উদ্দীপনায় উজ্জীবিত থাকেন। ছাত্র-শিক্ষক সবাই নব উদ্যমে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বছর শুরু করেন। কিন্তু অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় সেই উৎসাহে ভাটা পড়ে এবং সময় বিফলে যায়। তাই আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত।

ইমাম তবরানি (রহ.)-এর ‘আল-মুজামুল কাবীর’-এ হজরত হিন্দ ইবনে আবু হালা (রা.) থেকে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবায়ে কেরামকে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে যেন অমনোযোগ বা বিরক্তি তৈরি না হয়, সেদিকে সযত্ন দৃষ্টি রাখতেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সপ্তাহে একদিন, কেবল বৃহস্পতিবার ওয়াজ-নসিহতের মজলিস করতেন। তাঁর কাছে প্রতিদিন এমন মজলিস করার আবেদন করা হলে তিনি বলতেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে বিরতি দিয়ে নসিহত করি, যেমনটা রাসুল (সা.) করতেন; যেন দীনি কথা শোনার আগ্রহ হারিয়ে না যায়।’

সিরাতের এই শিক্ষা থেকেই মাদরাসার উস্তাদগণ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সুচিন্তিত ভাবনার ভিত্তিতে পরিমিত ও চমৎকার কিছু নসিহত পেশ করেন। ছাত্রদের উচিত সেই উপদেশগুলো গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। তবেই বর্তমান বছরটি অন্যান্য বছরের তুলনায় আরও ফলপ্রসূ হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে বসেই আধুনিক সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল লেখালেখি শেখার সুযোগ

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—আগেকার সময়ে যাঁরা আলেম হতেন, তাঁরা ইলমকে যথাযথভাবে ধারণ করতেন। নিজের অঙ্গে মাখতেন এবং কর্মে ইলমের প্রতিফলন ঘটাতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের অবস্থা অনেক ভিন্ন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখনকার ছাত্ররা দীর্ঘ সময় দীন চর্চায় যুক্ত থাকার পরও ফারাগাতের (শিক্ষা সমাপ্তির) পর তাদের মধ্যে বিশেষ কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। মুখে জিকির উচ্চারিত হয় না, আমলে সুন্নাহর প্রতিফলন ঘটে না।

এর প্রধান কারণ হলো, দীনি পরিবেশে থেকেও সুন্নাহকে মন থেকে ধারণ করার ক্ষেত্রে অবহেলা করা। তাই আমাদের উচিত অর্জিত ইলমকে নিজ জীবনে ধারণ করা এবং প্রতিটি আমলকে ইলমের রঙে রঙিন করা। এবং পাশাপাশি প্রতিটি কাজে 'মাসনুন দোয়া' পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পারিবারিক ও ঘরোয়া ঝামেলার চাপমুক্ত ছাত্রজীবনই এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কারণ, কোনো বিষয় অভ্যাসে পরিণত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।

দুনিয়া ও আখিরাতে এর বহুমুখী কল্যাণ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসও সে কথাই বলে। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন। (সহিহ মুসলিম: ৩৭৩)

অনুরূপভাবে হিন্দ ইবনে আবু হালা রা. থেকে একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকবার ওঠা ও বসার সময় আল্লাহ তাআলার জিকির করতেন। (আল-মুজামুল কাবীর)

লেখক: প্রবন্ধকার, শিক্ষক, ইমাম ও খতিব

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ