আবুল ফাতাহ কাসেমী: দেশের দ্বীপ জেলা ভোলা। এ জেলায় রয়েছে চরফ্যাশন নামে থানা। সে থানার গ্রামগুলোর নাম করণ করা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে বাইত ও সাহাবাদের নামে। আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য আমরা তুলে ধরছি সে এলাকার কিছু গ্রামের নাম।
ভালো অর্থবোধক নাম রাখা ইসলামের শিক্ষা। নাম ব্যক্তি, স্থান কিংবা স্থাপনার যারই হোক। ভালো নামের অর্থ ব্যক্তির মাঝে প্রভাব ফেলে। স্থানীয় জনতার মাঝে বেশ প্রভাব ফেলার ব্যাপারেও আশাবাদী হওয়া যায়। এ ধরনের আশাবাদ ইসলামে বৈধ। এটাকে হাদীসের পরিভাষায় তাফাউল (تَفَاؤُلٌ) বলা হয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
ﻛﺎﻥ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺘﻔﺎءﻝ ﻭﻻ ﻳﺘﻄﻴﺮ، ﻭﻳﻌﺠﺒﻪ اﻻﺳﻢ اﻟﺤﺴﻦ. ﺭﻭاﻩ ﺃﺣﻤﺪ ﻭاﻟﻄﺒﺮاﻧﻲ، ﻭﻓﻴﻪ ﻟﻴﺚ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻠﻴﻢ، ﻭﻫﻮ ﺿﻌﻴﻒ ﺑﻐﻴﺮ ﻛﺬﺏ
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভ লক্ষণ পোষণ করতেন, অশুভ লক্ষণ মনে করতেন না। আর তিনি সুন্দর নাম দ্বারা মুগ্ধ হতেন।’ [মুসনাদে আহমাদ, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৯২, হাদীস: ১২৮২৭]
একটি ভালো নামের মাধ্যমে শীলনতা প্রকাশ পায়। ব্যক্তিত্বের আভিজাত্য ফুটে উঠে। তাই কেউ কোন দিন নিজ সন্তানের নাম ‘হাবিল’, ‘কাবিল’ রাখেনি। কোন অধিবাসী তাদের স্থানের নাম ‘বালাবাক্কু’ রাখেনি।
এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সন্তানের প্রতি পিতা মাতার কী দায়িত্ব? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, ‘যখন কারো ঘরে সন্তান জন্ম লাভ করে তখন সে সন্তানের সুন্দর নাম রাখবে। ইসলামের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ নাম রাখবে।’ কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার ও পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব কদু, বদু, আপেল, কমলা, আকাশ, বাতাস, সনি, শনি, অর্ক, শর্ক ইত্যাদি এ জাতীয় অসুন্দর অর্থহীন দূর্বোদ্ধ নাম রাখা উচিত নয়। এ জাতীয় নামে ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে না। এ জাতীয় নামে ইসলাম ধর্মের স্বকীয়তা খুঁজে পাওয়া যায় না।
আজকাল ডাইজেস্ট দেখে নাম চয়ন করার ফ্যাশন শুরু হয়েছে। নামের এ সৌন্দর্য যেমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে। স্থান, স্থাপনা বা জায়গার ক্ষেত্রেও একই বিধান। যদি কোন মুসলিম এলাকার নাম রাখা হয় ‘দেবীদ্বার’। তাহলে একজন আগন্তুকের জন্য এ এলাকার পরিবেশ নির্ণয় কিছুটা কষ্টকর হবে। তাই একটি সুন্দর সুকুমার নাম শুচিময় রুচির পরম পাওয়া। এটা à