বেলায়েত হুসাইন ।।
জিংজিয়াং ও তিব্বতে বসবাসরত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের অধিকারকে সম্মান জানাতে চীনের প্রতি বিশেষ আহবান জানিয়েছে বিশ্বের অন্তত ৪০ টি দেশ। তারা হংকংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বুধবার সৌদি গণমাধ্যম আল আরাবিয়া জানিয়েছে, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এসব দেশ যৌথ এক বিবৃতিতে এ আহবান জানায়। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, হন্ডুরাস, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আলবেনিয়া এবং বসনিয়া সহ বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশের সাক্ষর রয়েছে।
সাক্ষরকারী দেশসমূহ জানিয়েছে, আমরা জিংজিয়াংয়ে মানবাধিকারের দৃশ্যমান অবস্থা এবং হংকংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
চীনের নিকট এসব দেশ একটি প্রতিবন্ধকতামুক্ত স্বাধীন পর্যবেক্ষণের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অধীন জিংজিয়াংয়ে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে।
জাতিসংঘে জার্মান রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হিউসগেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির বৈঠককালেও এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি চীনকে মানবাধিকারের প্রতি; বিশেষত জিংজিয়াং এবং তিব্বতের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সম্মান জানানোর আহবান জানিয়েছেন।
অপরদিকে জাতিসংঘে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত চীন সহ অন্তত ৫৫ টি দেশের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি পাঠ করে শুনিয়েছেন। বিবৃতিতে হংকংয়ের চলমান পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
জাতিসংঘে চীনা রাষ্ট্রদূত চ্যাং জুন জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের অবস্থানকে 'ভন্ডামি' আখ্যায়িত করেছেন।এই তিন দেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের কুকর্ম ও পক্ষপাতমূলক অবস্থান পরিহার করে নরকের নিকট থেকে ফিরে আসুন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চীনের বিপরীতে এতোগুলো দেশের সাক্ষরিত বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যও চীনের বিরুদ্ধে এজাতীয় অভিযোগ এনে বিশ্বের ২৩ টি দেশ সাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল।
পশ্চিমা কূটনৈতিকদের মতে, এ জাতীয় বিবৃতিতে সাক্ষর না করতে প্রতি বছরই বেইজিং জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহকে চাপ প্রয়োগ করে। সূত্র: আল আরাবিয়া
-এটি