আওয়ার ইসলাম: বিগত কয়েক দশকের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সুদানের আপাদকালীন সরকার এবং কয়েকটি বিদ্রোহী দল।
গত শনিবার যুবায় এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দক্ষিণ সুদানের সভাপতিত্বে কয়েক মাস ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর গত আগস্টে প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল তিনটি বড় দল। যার মধ্যে দারফুরের পশ্চিম অঞ্চল থেকে দুটি দল এবং একটি দক্ষিণ অঞ্চল থেকে। অ্যাডেলাজিজ আল-হিলুর নেতৃত্বে আরেকটি শক্তিশালী বিদ্রোহী দল সুদান জনগণের মুক্তি আন্দোলন-উত্তর, যারা প্রথম শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়নি। অবশ্য তারা সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ সুদানের নেতৃত্বাধীন নতুন আলোচনায় যোগ দিতে সম্মত হয়েছিল।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সুদান এবং দক্ষিণ সুদানে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ডোনাল্ড বুথ বলেন, এই ঐতিহাসিক অর্জনটি বহু দশকের দ্বন্দ্ব এবং ভোগান্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি। তাই চুক্তিটি দেরি না করে পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানটিতে আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে ইথিওপিয়া ও চাদের প্রেসিডেন্ট এবং মিশর ও উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। কয়েক দশক ধরেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে সুদানের মানুষ। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ সুদানকে বিচ্ছিন্ন করার পর একটি অর্থনৈতিক সঙ্কট, বিক্ষোভকে উৎসাহিত করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর হাসান আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হন।
ক্ষমতা ভাগ করে নেয়া সুদানের নতুন বেসামরিক এবং সামরিক নেতারা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান করা হবে। আর সেটাই তাদের অগ্রাধিকারের শীর্ষে।
আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়া এই চুক্তিতে বিদ্রোহীদের সুরক্ষা বাহিনীকে সংহত করার, রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপিত হওয়ার এবং অর্থনৈতিক ও ভূমির অধিকার থাকার শর্ত রয়েছে। পাশাপাশি একটি নতুন তহবিল দারিদ্র্য কবলিত দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলকে ১০ বছরের জন্য প্রতি বছর ৭৫০ মিলিয়ন করে দেবে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরে আসার সুযোগও গ্যারান্টিযুক্ত।
-এটি