মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৬ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় ৭ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের একের পর এক ঘটনায় বেসামাল যুক্তরাষ্ট্র। বর্ণবাদ বিরোধী চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ডের বিষয় সামনে এলো।

৩০ মার্চ ড্যানিয়েল প্রুড নামের ওই ব্যক্তি মারা গেলেও বুধবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের রচেস্টারে হুড পরিয়ে মুখ চেপে ধরে প্রুডকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন পুলিশের বিরুদ্ধে।

সেই ঘটনায় ভিডিও সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন শহরটির মেয়র। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নগ্ন হয়ে প্রুড রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন। তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ধরে ফেলে। তার মুখে ঠুলি পরিয়ে দেয়া হয়, এরপর মাথা ফুটপাথে দুই মিনিট ধরে চেপে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, তিনি যাতে থুতু ফেলতে না পারেন, তার জন্য তারা এই কাজ করেছিল। তারপর গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাত দিন পর তার পরিবার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তার মৃত্যু হয়। এর মধ্যে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুরো বিশ্ব বর্ণ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে কেঁপে উঠেছে। যদিও প্রুড মারা গেছেন ফ্লয়েডকে হত্যার দুই মাস আগে।

তার দেহ যিনি পরীক্ষা করেছেন সেই চিকিৎসক জানিয়েছেন, এটা খুন। শারীরিক নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় প্রুড মারা গেছেন। প্রুড ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন। তার চিকিৎসা চলছিল। তাকে মানসিক হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নগ্ন হয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়তে থাকেন।

তার এক আত্মীয় লেটোরিয়া মুর জানিয়েছেন, ‘তার কী মনে হয়েছিল, কেন তিনি দৌড়চ্ছিলেন, কোন পরিস্থিতিতে দৌড়চ্ছিলেন, সে সব আমি জানি না। আমি শুধু জানি, এভাবে পুলিশি অত্যাচার অন্যায়। পুলিশ কেন এভাবে তাঁকে হত্যা করবে?’ আর রচেস্টারের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র লাভলি ওয়ারেন বলেছেন, ‘ড্যানিয়েল প্রুডের ঘটনা হলো পুলিশ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সমাজ এবং আমার নিজের ব্যর্থতা। আমরা কালো মানুষদের জীবন রক্ষা করতে পারছি না।’

কিন্তু ভিডিও প্রকাশে এত দেরি হলো কেন? পুলিশ কর্তারা কি অপরাধীদের বাঁচাতে চাইছিলেন? এই সব প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ প্রধান বলেছেন, ‘আমি মানুষের রাগের কারণ বুঝতে পারছি। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেনি।’

বুধবার ভিডিও সামনে আসার পরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়। তারা অবিলম্বে দোষী পুলিশের শাস্তি দাবি করে। বিক্ষোভ চলবে বলে তারা জানায়।

এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জ্যাকব ব্লেকের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে। বিক্ষোভে তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ট্রাম্প সমর্থক।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ