আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ ।।
মরুভূমির ধুলিগর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক অভূতপূর্ব নগরী ইরাম, যাকে ডাকা হয় মরুর আটলান্টিস। কথিত আছে, শাদ্দাদ বিন আদ নামের এক ব্যক্তি ছিল এ শহরের রাজা, তার নির্দেশেই নির্মিত হয় ভূস্বর্গ। চলুন জেনেনি আজ ইরাম নগরীর যত গল্প।
অবাক করা ব্যাপার, কেবল উপকথার পাতাতেই নয়, ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনেও উল্লেখ আছে এ নগরীর, ‘তুমি কি ভেবে দেখনি তোমার প্রতিপালক আদ জাতির ইরামে কী করেছিলেন? তাদের ছিল সুউচ্চ সব স্তম্ভ, যেমনটি পৃথিবী কোনোদিন দেখেনি আগে।’ (সুরা আল-ফাজর: ৬-৮)
কুরআনের ‘ভেবে দেখনি’ কথা থেকে ধরে নেয়াই যায় যে, আরবরা ভালো করেই জানত ইরাম (إِرَم) নগরীর কথা, সেটা উপকথাতেই হোক, আর ধ্বংসস্তূপ দেখেই হোক। আমরা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করব, এ নগরী নিয়ে উপকথার ফাঁকে ফাঁকে হোক আর অন্যত্রই হোক- কী কী বলা রয়েছে। আর কী কাহিনীই বা জড়িত আছে এর সাথে?
কথিত আছে, হযরত নুহ আ.-এর পুত্র শামের (سام) ছেলেই আদ (عاد)| তার পুত্র শাদ্দাদ আদ জাতির প্রতাপশালী রাজা ছিল, যার স্বপ্ন ছিল দুনিয়াতে স্বর্গ নির্মাণ করা। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, এ জাতির প্রতি পাঠানো হয় আরবীয় নবী হুদ আ.-কে (هود)| কুরআনে তার নামে আলাদা সুরাই রয়েছে। বাইবেল বিশারদগণ আবার তাকে বাইবেলের ইবার (עֵבֶר) বা আবির বলে মনে করেন, যিনি কিনা ইসমাইল আ. ও ইসহাক আ. এর পূর্বপুরুষ ছিলেন। মজার ব্যাপার, এই ইবারের সাথে মিল পাওয়া যায় ইরামের অপর নামের, যেটি হল উবার (Ubar)।
কুরআন বলছে, আদ জাতির ইরাম নগরীর অবস্থান ছিল আল-আহকাফ (الأَحـقَـاف)-এ| যার মানে দাঁড়ায় ধুলিময় সমভূমি কিংবা প্রচুর বাতাস বয়ে যাওয়া পাহাড়ের কোলের মরুঅঞ্চল’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জায়াগাটি আরব উপদ্বীপের দক্ষিণে, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল বা ওমানের পশ্চিমাঞ্চলে। আরবিতে এ শহরকে ডাকা হয় ইরাম যাত আল-ইমাদ (اِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ۪ۙ۰۰۷) নামে, অর্থ স্তম্ভের নগরী ইরাম (Iram of the Pillars)| আসলেই আশির দশকে সেই অঞ্চলে একটি ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যাকে উবার নগরীই মনে করা হয়।
ইবনে কসিরের আল-বিদায়া গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি, আদ জাতি প্রতাপশালী ও ধনী ছিল, নির্মাণ করেছিল সুউচ্চ সব অট্টালিকা। তারা একসময় একেশ্বের