মোস্তফা ওয়াদুদ : মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। এক সময় কথাটি অনেক শোনা গেলেও বর্তমানে আলেমগণ এ ট্যাগ মুছতে পেরেছেন শতভাগ। এখন শুধু দেশের মসজিদেই না; বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থান সংসদেও মোল্লাদের দৌড় লক্ষ করা যায়। বিদেশের রাজা-বাদশাহদের বাসভবনের প্রধান মেহমানও হোন এখন মাদরাসা পড়ুয়া আলেম। দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বের বড় বড় কাজগুলোর প্রধান কর্মকর্তাও এখন টিনঘরের চার দেয়ালে বেড়ে উঠা উলামায়ে কেরাম।
আজ এমনি একজন আলেমের গল্প শোনাবো। যিনি সব বিষয়ে অলরাউন্ডার। যেনো প্রতিভারা নিজে থেকে ধরা দেয় তাঁর কাছে। তিনি একাধারে আলেম, ইমাম, খতীব, বক্তা, লেখক, ডাক্তার, ধর্মপ্রচারক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, অনুবাদক, বিচারক, রাজনৈতিক ও সমাজসেবক। এতকিছুর পরেও যে পরিচয়টি তাঁর সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় সেটি হলো, তিনি একজন আলেম।
বহুগুণের প্রতিভাবান এ মানুষটিকে অনেক ষড়যন্ত্রের বেড়ী পার করতে হয়েছে। চরম নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কঠিন বিপদের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে জীবনের সোনালি অধ্যায়গুলো।
তাঁর একটার পর একটা লাগাতার সফলতা দেখে এক শ্রেণির মানুষ হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যেতো। হিংসার আগুণে পুড়াতে চাইতো অলরাউন্ডার এ আলেমকে। কিন্তু কুদরতের ওসিলায় বেঁচে যাওয়া মানুষটির সাথে না পেরে নিজেরাই নিজেদের আগুণে আত্মহুতি দিয়ে বলতো, ওকে সৃষ্টিই করা হয়েছে এক নাম্বার করে।
বহু প্রতিভাধারী এ মানুষটির নাম 'মাওলানা আব্দুল করিম ইবনে মুসাব্বির'। বাবার নাম মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মুসাব্বির। তিনি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার কালিজুরী গ্রামে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম কমলা বেগম। দাদার নাম আলহাজ্ব আব্দুর রশীদ। তাঁর দাদা তৎকালীন জমিয়ত নেতা ছিলেন।
মাওলানা আব্দুল করিমরা তিন ভাই, এক বোন। তিনি মেঝো। সম্ভ্রান্ত বংশের রমনি নাসিমা বেগমের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। তাঁর সন্তানাদি পাঁচজন। তিন ছেলে আরাফাত করিম, শাহরিয়ার করিম ও আদিল করিম। দুই মেয়ে আবিদা করিম ও সাজিদা করিম।
মেধাবী এ আলেম শিশুবেলা থেকেই অত্যান্ত নম্র-ভদ্র ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার হাত ধরে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ, জামিয়া ইসলামিয়া বুধবারী বাজার কওমি মাদরাসায় ভর্তি হোন। তৎকালীন সময়ে সিলেটের আযাদ দীনি বোর্ডে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি।
এরপর তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দ