মূল: সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী
অনুবাদ: মঈনুদ্দীন তাওহীদ
প্রিয় সিরিয়া!
আজ তুমি এমন সত্ত্বা থেকে অভিনন্দন গ্রহণ করো যে তোমায় আশৈশব ভালোবেসেছে। তোমার বন্দনায় সুদীর্ঘকাল যাপন করেছে। সে যখন ছোট্ট ছিলো, তখন ইসলামের যুদ্ধ কাহিনীগুলো উন্মুখ হয়ে শুনতো, শুনতো শামের অমর বিজয়গাঁথা।
তখনই সে আপন গ্রাম-শহরের মত তোমার নগর-বন্দরকে আপনার মত করে চিনে নিয়েছিলো। যৌবনে সে যখন ইসলামি ইতিহাসের সোনালি স্বর্ণলিপি অধ্যয়ন করতো। তখন সে দেখেছে ইতিহাসের প্রতিটি প্রদীপ্ত পাতায় তোমার প্রলম্বিত বিচরণ, আর মুসলমানদের ঈমানি নির্ভরতার অনন্য কীর্তিগাঁথা।
গোটা আরবকে যা সেই সময়ের দিনগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন তারা ছিলো অর্ধ জাহানের কর্তা!
প্রিয় শাম! আমার আপন সত্ত্বা, বিশ্বাস আর উত্তপ্ত হৃদয় থেকে উৎসারিত শ্রদ্ধা কবুল করো! এরা প্রত্যেকেই তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
আমার নফস তো তোমার জমিনে রক্তে সিঞ্চিত করা বীরদের নজরানায় আনিত ঈমান পেয়ে মহাখুশি।
আর আমার বিশ্বাস। জড়বস্তুর ওপর প্রাণের বিজয়, নিকৃষ্টের ওপর উৎকৃষ্টের শ্রেষ্ঠত্ব, তলোয়ারের ওপর ঈমানের জয়জয়কার দেখে আমার বিশ্বাস আজ উচ্চতায় আকাশচুম্বি আর দৃঢ়তায় পর্বতসম।
আমার ঘুমন্ত হৃদয় আজ জাগরুক। আকাশসম উঁচু আর শীতল সুপেয় এক উদ্দেশ্য অনুধাবনের লক্ষ্যে।
সেটা হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। তার পথে চলার দৃঢ় প্রত্যয়, মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব বোধ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা। এগুলো সেই লক্ষ যা তোমার ইতিহাসকে করেছে অবিস্মরণীয়। আর তোমার ভূখণ্ডকে চমকিয়ে দিয়েছে গোটা অবনীতে।
তোমার সামনে আজ আমি ওই সাগরের ওপারের কোটি কোটি বাসিন্দার নির্লোভ ভালোবাসা অর্পিত করছি। যারা তোমাকে দূর থেকেও অসম্ভব রকমের ভালোবাসে।
তুমি মনে হয় বিস্মিত হচ্ছো!! হে প্রিয় ভূমি!! তুমি অসংখ্য মানুষের অকুণ্ঠ মুহাব্বতে বিস্মিত হয়ো না!
বিশ্বাস করো! ভারত সাগরের তীরে, হীমালয় পর্বতের ছায়ানীড়ে এমন বিপুল জনতার বসবাস যারা সম্প্রীতির বন্ধনে চির অটুট, ভালোবাসায় চির অনঢ়।
তারা তোমাকে সত্তিই খুব ভালোবাসে। অনেক আগে থেকে। দিবানিশি তারা তোমার কথা স্মরে।
তুমি কি জানো! মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ থেকে যখন আজানের সুমধুর সুর ভেসে আসে। মহা সান্ত্বনা যখন এর ধ্বনিতে গুঞ্জরিত হয়, তখন তাদের চিত্তে ভেসে ওঠে তোমার ছবি।
দৃষ্টির সামনে চিত্রায়িত হয় বেলালে হাবশীর না দেখা অবয়ব যার প্রেমময় আজেনের ধ্বনিতে এখনো এই ভূমি প্রভাবিত। ইনশাআল্লাহ কেয়ামত তক থাকবেà