দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার সনদ ও নম্বরপত্র সংগ্রহ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে ১৪৩৮ হিজরি থেকে ১৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১০টি পরীক্ষার সনদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বোর্ডের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এমন নির্দেশনা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব ধরনের মূল ও সাময়িক সনদ ও নম্বরপত্র ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচায় অবস্থিত আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে। সপ্তাহের প্রতি শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অফিসের কার্যক্রম চলবে। শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস বন্ধ থাকবে। সনদসংক্রান্ত বিষয়ে ০৯৬১১-৬৩৪৭৩৪ নম্বরে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (নামাজের সময় ব্যতীত) হটলাইনে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া পরীক্ষা ও সনদসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ০১৯৭০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো যাবে।
১৪৪৩-১৪৪৭ হিজরির পরীক্ষার্থীদের জন্য
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪৪৩ হিজরি (২০২২ ইংরেজি) থেকে বর্তমান সফটওয়্যার চালুর পর মূল সনদ ও নম্বরপত্র প্রস্তুত ও বিতরণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৪৪৩, ১৪৪৪ ও ১৪৪৫ হিজরি সনের মূল সনদ ও নম্বরপত্র অনেক মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট মাদ্রাসায় পৌঁছানোর কাজও চলমান রয়েছে।
নিজ নিজ মাদ্রাসায় সনদ পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার মুহতামিম বা নাযেমে তালিমাতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ১৪৪৬ ও ১৪৪৭ হিজরি সনের মূল সনদ ও নম্বরপত্র প্রস্তুতের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শুরু হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১৪৩৮-১৪৪২ হিজরির পরীক্ষার্থীদের যা করতে হবে
১৪৪২ হিজরি (২০২১ ইংরেজি) পর্যন্ত ব্যবহৃত পুরোনো সফটওয়্যারে সনদ প্রিন্টের ব্যবস্থা ছিল না। স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সনদ ও নম্বরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম আরবি, বাংলা ও ইংরেজি তিন ভাষায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর সংবলিত থাকতে হবে। কিন্তু ১৪৩৮ থেকে ১৪৪২ হিজরি সনের পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধনের সময় এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে তাদের সনদ প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণে এসব পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে তথ্য দাখিল করতে হবে। প্রথমে পরীক্ষার হিজরি সন ও রোল নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করে আবেদন ফরমে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ অনুযায়ী নিজের, পিতা ও মাতার নাম বাংলা, ইংরেজি ও আরবি তিন ভাষায় সঠিকভাবে টাইপ করতে হবে।
এর সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্রের স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি আপলোড করতে হবে। প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে মাদ্রাসার প্যাডে মুহতামিম বা নাযেমে তালিমাতের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত প্রত্যয়নপত্রের কপি আপলোড করতে হবে।
নির্ধারিত মাপের পাঞ্জাবি-টুপি পরিহিত সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড করতে হবে। ছবির মাপ ৪৩৪×৫৬০ পিক্সেল, সাদা বা নীল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট হতে হবে। এ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না।
সনদ ও নম্বরপত্র প্রস্তুত হলে পরীক্ষার্থীর মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএস পাওয়ার পর সরাসরি অফিসে এসে সনদ সংগ্রহ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ‘আবেদনের স্ট্যাটাস দেখুন’ অপশনে ট্র্যাকিং আইডি দিয়ে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে। যারা এখনো তথ্য দাখিল করেননি, তাদের অনতিবিলম্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
সাময়িক সনদ সংগ্রহ
সাময়িক সনদ ও নম্বরপত্র প্রদানের কার্যক্রম সবসময় চালু রয়েছে। সরাসরি অফিসে গিয়ে অথবা অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র (যদি থাকে) আপলোড করতে হবে।
নির্ধারিত ফি নগদ (Nagad) বা ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে পাওয়া রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। সনদ প্রস্তুত হলে মোবাইলে এসএমএস দেওয়া হবে। এরপর অফিসে এসে সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
সনদ বিতরণে বিলম্বের কারণ
বিজ্ঞপ্তিতে সনদ ও নম্বরপত্র বিতরণে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা চলাকালে অফিসের সব কর্মী পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া ইলমুল কিরাআত পরীক্ষার নিবন্ধনের জন্য সাময়িক সনদ উত্তোলনে ভিড়সহ বিভিন্ন সময় আকস্মিক ব্যস্ততা তৈরি হয়।
একই সঙ্গে কয়েক বছরের সনদ ও নম্বরপত্র একসঙ্গে জমা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরকারীদের স্বাক্ষর দিতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগে। এ বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া। সনদ প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম ও তথ্য সংশোধন
সনদ বা নম্বরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম বাংলা, ইংরেজি বা আরবিতে, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, ছবি কিংবা অন্য কোনো টাইপজনিত বা প্রযুক্তিগত ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার মুহতামিম বা নাযেমে তালিমাতের স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রসহ সরাসরি অফিসে এসে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নিবন্ধনপত্র, মূল প্রবেশপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, পূর্ববর্তী বোর্ড পরীক্ষার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
নামে বড় ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার প্রত্যয়নপত্র এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অভিভাবকের এফিডেভিট প্রয়োজন হবে। সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা।
যাচাই-বাছাই ও সংশোধনী কমিটির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত সংশোধন সম্পন্ন হবে। প্রয়োজন হলে নতুন সনদ বা নম্বরপত্র ইস্যু করা হবে। এ ক্ষেত্রে আগের সনদ জমা দিয়ে সংশোধিত সনদ নিতে হবে।
তবে পরীক্ষার্থীর নাম এবং পিতা-মাতার পূর্ণ নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু আংশিক সংশোধন করা যাবে। জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ দাখিল করতে হবে। জাল কাগজপত্র দাখিল করলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে থাকা পরীক্ষার্থীদের সনদ সংগ্রহ
বিদেশে অবস্থানরত পরীক্ষার্থীরা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সনদ নিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার মুহতামিম বা নাযেমে তা‘লীমাতের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে পারবেন।
প্রত্যয়নপত্রে প্রতিনিধির নাম, পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে। মাদ্রাসার প্যাডে মুহতামিম বা নাযেমে তা‘লীমাতের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ওই প্রত্যয়নপত্র এবং নিজের পরিচয়পত্র নিয়ে প্রতিনিধি অফিসে এসে সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
ছাত্রীদের সনদ সংগ্রহ
ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের সনদ ও নম্বরপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে মুহতামিমের সিল-স্বাক্ষরযুক্ত মাহরাম পরিচয়সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। এতে মাহরামের নাম, ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে।
মনোনীত মাহরাম প্রত্যয়নপত্র, নিজের পরিচয়পত্র এবং ছাত্রীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে এসে তার পক্ষে সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিশেষ ক্ষেত্রে যা করতে হবে
মূল প্রবেশপত্র বা নিবন্ধনপত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্যাডে মুহতামিম বা নাযেমে তা‘লীমাতের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত প্রত্যয়নপত্র জমা বা আপলোড করলেই হবে।
একই ব্যক্তির একাধিক নাম থাকলে মাদ্রাসা কর্তৃক প্রদত্ত ‘একই ব্যক্তি’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। এতে পরীক্ষার্থীর প্রকৃত নাম, ওরফে নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, নিবন্ধন ও রোল নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। প্রত্যয়নপত্রে মুহতামিম অথবা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষার্থী নিজে উপস্থিত হতে না পারলে বাহকের মাধ্যমেও সনদ সংগ্রহ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে যে মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষার্থী দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই মাদ্রাসার প্যাডে মুহতামিম বা নাযেমে তা‘লীমাতের সিল-স্বাক্ষরসহ বাহকের নাম, পিতার নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। বাহক ওই প্রত্যয়নপত্র, নিজের পরিচয়পত্র এবং পরীক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে এসে সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে বোর্ডের অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আইও/