বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৯ সফর ১৪৪৮


আস-সুন্নাহ কেন ব্যক্তিগত সহায়তা করে না, ব্যাখ্যা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ব্যক্তিগত ঋণ বা চিকিৎসার জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা করে না—এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিদিন সরাসরি অফিস, ফেসবুক ও ইমেইলের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। কারও প্রয়োজন কয়েক হাজার টাকা, আবার কারও ঋণের পরিমাণ কোটি টাকায়। প্রতিটি আবেদনই সংবেদনশীল হলেও বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন যে পরিমাণ আবেদন আসে তার মোট আর্থিক পরিমাণ ফাউন্ডেশনের পুরো বছরের বাজেটেরও কয়েক গুণ বেশি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হলেও সেই বিপুল অর্থ দিয়েও সব মানুষের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় না। সেখানে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে পরিচালিত একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সব ধরনের ব্যক্তিগত সংকটের সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি বলেন, সীমিত বাজেট থেকে যদি ব্যক্তিগত ঋণ বা চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করা হয়, তাহলে সুপারিশ, তদবির কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে প্রকৃত অসহায় মানুষেরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। একটি আদর্শ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের নীতিতে এমন বৈষম্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং দাতাদের আমানত এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ কল্যাণ সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি ট্রেডে ২ হাজার ১০০-এর বেশি নারী-পুরুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম বছরেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করেছেন এবং ভবিষ্যতে এই সুফল আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, একই অর্থ সরাসরি বিতরণ করা হলে তাৎক্ষণিক উপকার মিললেও অর্থের কার্যকারিতা সেখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সেই অর্থ দীর্ঘমেয়াদি ও বহুগুণ কল্যাণে পরিণত হচ্ছে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, 'কাউকে প্রতিদিন মাছ কিনে দেওয়ার চেয়ে তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দেওয়া'—এই নীতিই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মূল দর্শন।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঋণগ্রস্ত বা অসুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের সহায়তা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের তুলনায় ব্যক্তিগত, মসজিদভিত্তিক কিংবা এলাকাভিত্তিক উদ্যোগে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে আবেদনকারীদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা তুলনামূলক সহজ।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রকল্পভিত্তিক কাজ করার অন্যতম কারণ হলো স্বচ্ছতা ও ইনসাফ নিশ্চিত করা। কোন খাতের অনুদান কোন প্রকল্পে ব্যয় হবে, তা প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত আবেদন আহ্বান, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই এবং নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়, যাতে স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের সুযোগ না থাকে।

সবশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমতের পর মানুষের দোয়া, আস্থা ও ভালোবাসাই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি সবার নেক প্রচেষ্টা কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ