শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ ।। ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :

কাফিয়ার অনন্য আরবি শরাহ ‘আন-নাফিয়াহ ফী শারহিল কাফিয়াহ’


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আরবি ব্যাকরণ (নাহু) শাস্ত্রের অন্যতম কালজয়ী ও সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ ‘কাফিয়া’। এই কিতাবটি আয়ত্ত করা শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষক—সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাফিয়া পাঠকদের এই শিক্ষণসফরকে আরও সহজ, প্রাণবন্ত ও গবেষণাধর্মী করে তুলতে বাজারে এসেছে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী আরবী ব্যাখ্যাগ্রন্থ “النافعة في شرح الكافية” (আন-নাফিয়াহ ফী শারহিল কাফিয়াহ)।

গ্রন্থটি রচনা করেছেন ঢাকার মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম ঢাকা-এর মুহাদ্দিস এবং ‘উলূমিল হাদীস’ বিভাগের উস্তাদ মুফতি কাওছার আহমাদ।

প্রকাশক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রচলিত অন্যান্য শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের তুলনায় এই কিতাবটিতে বেশ কিছু যুগান্তকারী ও অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কিতাবটিকে পাঠকপ্রিয় করে তুলবে।

কিতাবটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. ভুল সংশোধন ও বিশুদ্ধ নুসখা: বাজারে প্রচলিত হিন্দুস্তানী নুসখা বা পাণ্ডুলিপিতে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল রয়ে গেছে, যার কারণে অনেক সময় মাসআলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এই শরাহটিতে একাধিক বিশুদ্ধ আন্তর্জাতিক নুসখার ওপর ভিত্তি করে সেই ভুলগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

২. কুরআন ও হাদিসনির্ভর বাস্তব উদাহরণ: প্রচলিত কিতাবগুলোর মতো কেবল ‘ضربَ زيدٌ عمروا’ (যায়েদ আমরকে প্রহার করেছে) জাতীয় গৎবাঁধা উদাহরণের মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিটি নিয়মের অধীনে কুরআনুল কারিম, হাদিস শরিফ ও প্রাচীন আরবি সাহিত্য থেকে অসংখ্য বাস্তব ও প্রাণবন্ত উদাহরণ যুক্ত করা হয়েছে।

৩. সহজবোধ্য চিত্রকল্প ও নকশা: জটিল এবং বহুমুখী সম্ভাবনাযুক্ত মাসআলা বা নিয়মগুলোকে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নান্দনিক নকশা বা ‘শাজারা’ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে এক নজরেই পুরো বিষয়টি মাথায় গেঁথে যায়।

৪. অধ্যায়ভিত্তিক আধুনিক বিন্যাস: প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আলোচ্য বিষয়ের একটি সারসংক্ষেপ শিরোনাম আকারে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়গুলোকে ‘المبحث الأول’ (প্রথম পরিচ্ছেদ), ‘المبحث الثاني’ (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ) এভাবে বিন্যস্ত করে পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

৫. গৎবাঁধা ইবারত পরিহার: মূল মতনের আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা বা গৎবাঁধা দীর্ঘ ইবারত ব্যবহার না করে, প্রতিটি কায়েদা (নিয়ম) ও ফায়দাকে (উপকারিতা) আলাদাভাবে চিহ্নিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৬. শাস্ত্রীয় ও বিস্তৃত ব্যাখ্যা: শরাহটি কেবল মূল কিতাবের শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রসঙ্গক্রমে নাহু শাস্ত্রের বহু অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে তাত্ত্বিক ধারায় আলোচিত হয়েছে।

৭. শিক্ষণীয় ও রসাত্মক কৌতুক: শিক্ষার্থীদের ক্লান্তি দূর করতে এবং পাঠে মনোযোগ বাড়াতে কিতাবের বিভিন্ন স্থানে প্রাসঙ্গিক ও শিক্ষণীয় ‘নাহবী কৌতুক’ যুক্ত করা হয়েছে। যেমন— ইমাম যামাখশারীর দরজায় উমর নাসাফীর কড়া নাড়ার সেই বিখ্যাত রসাত্মক ও জ্ঞানগর্ভ ঘটনাটি এতে স্থান পেয়েছে।

৮. নির্ভরযোগ্য মূল উৎসের সংমিশ্রণ: শরাহটি রচনায় স্বয়ং কাফিয়ার লেখক ইবনে হাজেব (রহ.)-এর নিজস্ব দুটি শরাহ, তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-আমালী’ এবং নাহু শাস্ত্রের বড় বড় প্রামাণ্য কিতাবকে উৎস হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে।

৯. সঠিক অভিমত নির্ধারণ: বিভিন্ন মতবিরোধপূর্ণ (ইখতিলাফী) মাসআলায় অন্ধ অনুকরণ না করে, শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য সঠিক অভিমতটি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

১০. বেফাক পরীক্ষার বিশেষ প্রস্তুতি: কিতাবটি বোঝার পাশাপাশি জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার সুবিধার্থে প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে যুক্ত করা হয়েছে বেফাকের প্রশ্নপদ্ধতির আলোকে চমৎকার ‘তামরীন’ বা অনুশীলনীবলি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কিতাবটির ভূমিকায় এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির আরও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা পাঠককে কিতাবটির গভীরতা বুঝতে সাহায্য করবে।

কিতাবটি দেশের প্রধান প্রধান মাকতাবা বা লাইব্রেরিতে পাওয়া যাচ্ছে।

কিতাবটি সংগ্রহের প্রধান ঠিকানাসমূহ:

১. মাকতাবাতুল কাওছারী

দারুল উলুম ঢাকা, মিরপুর-১৩, ঢাকা।

যোগাযোগ: ০১৯৯২-৮৫৫৫৬০, ০১৯৮২-৬২৭৮০৮

২. দারুত তিবইয়ান

১১/১ ইসলামী টাওয়ার (আন্ডারগ্রাউন্ড, দোকান নং-২), বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০।

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৭২২-৭৩০১৩১

৩. মাকতাবাতুল হিজায

ইসলামী টাওয়ার (আন্ডারগ্রাউন্ড), বাংলাবাজার, ঢাকা।

যোগাযোগ: ০১৯১০-৯১১০৪৬

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ