রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী সোহেল রানা আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেছে, ‘আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। সে জানায়, ডলার নামের এই ব্যক্তি তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছে।’
সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়। বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হলে সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করে। একই সঙ্গে নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও মন্তব্য করে সে।
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানায়, সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক। এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে এই আসামি।
এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধু নিজের আইনি দায়িত্ব পালনের কথা জানান।
এদিকে মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হলেও এটি কার্যকর করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ, যা মূলত উচ্চ আদালতে গিয়ে থমকে যায়। তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে এটি দ্রুত শেষ হবে, না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আজ শুনানির দিনে এসে প্রধান আসামি নতুন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করল।
জেডএম/
