বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ।। ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৮ সফর ১৪৪৮


কওমি মাদরাসায় অপরাধে জিরো টলারেন্স, অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কওমি মাদরাসাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা, সামাজিক উদ্বেগ এবং পরিকল্পিত অপপ্রচারের প্রেক্ষাপটে দেশের আলেম, মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও গবেষকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কওমি মাদরাসায় সংঘটিত যেকোনো অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি মাদরাসা শিক্ষা ও আলেম সমাজকে হেয় করার অপচেষ্টারও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়াতুল উস্তাজ শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী-তে ‘সচেতন আলেম সমাজ’ ব্যানারে ‘সংকটের কবলে মাদরাসা শিক্ষা: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে।

সভায় বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধীকে কোনোভাবেই আড়াল করা হবে না। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কওমি মাদরাসাগুলোতে নৈতিক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিবন্ধন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, দেশের অধিকাংশ কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সৎ, আদর্শিক ও নৈতিক জীবনযাপন করেন। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো অঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাই আত্মসমালোচনার মাধ্যমে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

মতবিনিময় সভায় অভিযোগ করা হয়, কিছু মহল বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নির্দোষ আলেম ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

সভা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

যেকোনো ঘটনার তথ্য-যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং) কার্যক্রম জোরদার করা;

মাদরাসায় নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি;

কেন্দ্রীয় আলেমদের কাছে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন;

অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ;

গবেষণা ও পরিসংখ্যান সংরক্ষণ;

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক জবাব প্রস্তুত করা।

বক্তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধকে কখনোই ইসলাম বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। অপরাধকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবেই দেখতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব দায়িত্বশীল মহলের প্রতি সত্যনিষ্ঠ, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

সভার সমাপনী বক্তব্যে সচেতন আলেম সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল একদিনের আলোচনা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স এবং ইতিবাচক সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহিউদ্দীন ফারুকী। সঞ্চালনা করেন মাওলানা আবু মুহাম্মাদ রাহমানী ও মাওলানা এএফএম আকরাম হুসাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম ইমদাদী।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা তাহমিদুল মাওলা, মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, মাওলানা আবদুল গাফফার, মাওলানা মুহাম্মাদ আরাফাত, মাওলানা আদনান মাসউদ, মাওলানা আফফান বিন শরফুদ্দীন, মাওলানা আরিফুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আইনুল হক কাসেমী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ সিরাজ, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা নাছির মুহাম্মাদ, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম রঈস, মাওলানা সাবের চৌধুরী ও আবু নাঈম ফয়জুল্লাহ প্রমুখ।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ