ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে ঢুকেছে পাঁচ লাখের বেশি চামড়া।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে শনিবার বেলা ১০ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭১২টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে এসেছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৬টি কাঁচা চামড়া। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ৫ লাখ ১১ হাজার ৫৪০টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ১৬ হাজার ১৩৬টি।
সরেজমিনে শিল্প নগরী ঘুরে দেখা যায়, দিনভর ট্যানারিগুলোতে একের পর এক ট্রাকে করে চামড়া প্রবেশ করছে। শিল্প নগরীর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ট্যানারির ভেতর পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। চামড়া আনলোড, সংরক্ষণ ও লবণজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
মো. মেহরাজুল মাইয়া বলেন, শিল্পনগরীতে আসা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি।
শিল্প নগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বপালনরত কর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার ঈদের প্রথম দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সর্বপ্রথম কোরবানির পশুর চামড়া বহনকারী একটি গাড়ি শিল্পনগরীতে প্রবেশ করে। এরপর সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে চামড়াবাহী ট্রাকের চাপ।
দিনের প্রথম ধাপে আসা চামড়ার বড় অংশই ছিল রক্তমাখা কাঁচা চামড়া। ট্যানারিতে পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা দ্রুত সেগুলোতে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন।
ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্যানারিতে আগে থেকেই বড় পরিমাণ চামড়া মজুত থাকলেও নতুন করে সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে পুরোদমে।
প্রতিবছর কোরবানির ঈদের প্রথম দিন শিল্প নগরীতে প্রবেশ করা চামড়ার প্রায় সিংহভাগই রক্তমাখা কাঁচা চামড়া। কোরবানির পরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করতে নিয়ে আসা এসব চামড়ায় অধিকাংশ সময়েই লবন মাখানো হয়না। এছাড়াও রক্তমাখা এসব চামড়ার পরিমাণও কিন্তু কম নয়।
এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শনে আসেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির।
মন্ত্রী শিল্পনগরীর বিভিন্ন ট্যানারি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এমএম/