মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ।। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৯ জিলহজ ১৪৪৭


‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর, ১৫ লাখের বেশি হাজি মিনায় সমবেত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

শুরু হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসলিম সমবেত হয়েছেন মক্কার অদূরে তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায়। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে মিনা অভিমুখী পথ। দলে দলে হাজিরা মিনায় সমবেত হচ্ছেন।

পবিত্র নগরী মক্কায় বর্তমানে তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও হাজিরা কাবা শরিফ তাওয়াফসহ হজের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। রোদ থেকে বাঁচতে অনেকে ছাতা, ছোট বৈদ্যুতিক ফ্যান ও পানির স্প্রে ব্যবহার করছেন।

হাজিদের স্বস্তির জন্য মিনার তাঁবু নগরীতে শীতলীকরণ ব্যবস্থা, মিস্ট ফ্যান এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দলও হাজিদের মাঝে পানি বিতরণ করছে।

৮ জিলহজের দিনটি হাজিদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন জোহর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা সুন্নত। মক্কার বাইরে থেকে আসা হাজিরা মুসাফির হিসেবে জোহর, আসর ও এশার নামাজ কসর আদায় করবেন।

নামাজের পাশাপাশি জিকির, ইস্তেগফার, দরুদ শরিফ ও কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন হাজিরা। মিনায় রাতযাপনও হজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমলগুলোর একটি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও ইরান সংকটের মধ্যেই এবারের হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও সাময়িক যুদ্ধবিরতির আলোচনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা বজায় রয়েছে।

তবে এসব ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হাজিদের ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। মিশর থেকে আসা হাজি সামিয়া আবদুল মোনাইম বলেন, ‘আমি এক পরম সৌভাগ্যের মধ্যে আছি। এটি সত্যিই অবর্ণনীয় অনুভূতি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এক আশীর্বাদের মধ্যে রয়েছি।’

আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দান-এর উদ্দেশে। আরাফাতে অবস্থান করাই হজের প্রধান ফরজ রোকন। সেখানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হবে এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থানের পর হাজিরা যাবেন মুজদালিফায়। পরবর্তীতে মিনায় ফিরে কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ১২ জিলহজ সম্পন্ন হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সূত্র: ইনসাইড দ্য হারামাইন

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ