বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ।। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৪ জিলহজ ১৪৪৭


কওমি মাদরাসার চামড়া সংগ্রহ: দ্বীনি খেদমত, জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও আত্মনির্ভরতার সম্ভাবনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| শামসুদ্দিন শামীম ||

বাংলাদেশে প্রতি বছর ঈদুল আজহা এলেই একটি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে, মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। প্রতি বছরই এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ওঠে। কেউ এটিকে দ্বীনি খেদমত ও ঐতিহ্যের অংশ মনে কেরেন, আবার কেউ  আখ্যায়িত করেন লজ্জাজনক বা অবমাননাকর সংস্কৃতি হিসেবে। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমন?

বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি কেবল অর্থ উপার্জনের একটি পদ্ধতি নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় দায়বদ্ধতা, সামাজিক সংহতি, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থা টিকে থাকার একটি সংগ্রাম।

বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো মূলত মুসলিম উম্মাহর স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। সরকারি কোনো বাজেট ছাড়াই এ দেশের হাজার হাজার এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যবস্থা করে এসব প্রতিষ্ঠান। 

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির চামড়া কিংবা এর বিক্রয়লব্ধ অর্থ অসহায়দের প্রাপ্য। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আমি কোরবানির পশুর দেখাশোনা করি এবং এর গোশত, চামড়া ও ঝুল গরিবদের মাঝে বণ্টন করি; আর কসাইকে এর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে না দিই। ( সহিহ বুখারি: ১৭১৬) 

এই হাদিস থেকে ফকিহগণ বলেন, কোরবানির চামড়া ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে বিক্রি করলে দান-সদকার খাতে ব্যয় করতে হবে। মাদরাসাগুলো সেই হক আদায়ের একটি বিশ্বস্ত ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

ধারণা করা হয়, এতিম, দরিদ্র ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত অনেক মাদরাসার বার্ষিক বাজেটের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত আসে কোরবানির চামড়া থেকে। তাই চামড়া সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো, যার মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রের খাবার, আবাসন ও শিক্ষার ব্যবস্থা হয়।

আকাবিরে দ্বীনের শিক্ষা-দর্শন থেকে বোঝা যায়, এ ধরনের খেদমত ছাত্রদের মাঝে বিনয়, কষ্টসহিষ্ণুতা ও সমাজসচেতনতা সৃষ্টি করে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চামড়া সংগ্রহের মাধ্যমে আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আত্মিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়। কোরবানি দাতারা সরাসরি আলেমদের কাছে মাসআলা জানার সুযোগ পান, যা ইসলামের সঠিক জ্ঞান প্রচারে সহায়তা করে।

তবে এখানে আত্মসমালোচনারও সুযোগ রয়েছে। এ পদ্ধতিতে দ্বীনের দাওয়াত কতটা সুন্দরভাবে পৌঁছানো হচ্ছে? ছাত্রদের আচরণ, ভাষা ও উপস্থাপনা কতটা মার্জিত? মানুষ কি আলেমদের দেখে দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে? কীভাবে এ দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও মার্জিত করা যায়? এসব প্রশ্ন নিয়ে অবশ্যই চিন্তা ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে পুরো চামড়া সংগ্রহের ব্যবস্থাকেই অস্বীকার করা কতটা যৌক্তিক - সেটিও ভাবার বিষয়।

চামড়া সংগ্রহ নিয়ে যত সমালোচনা হয়, তার বড় অংশের কারণ মূলত পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও বাজারব্যবস্থার সংকট। বাস্তবতা হলো, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতে হয়। অনেক সময় তারা যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন পান না। কোথাও কোথাও বিব্রতকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়। অথচ এই সংগ্রহের পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও প্রচেষ্টা।

অন্যদিকে সংগ্রহের পরও চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দা, স্থানীয় ট্যানারি সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকার প্রতি বছর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই দাম কার্যকর হয় না। প্রান্তিক পর্যায়ের সংগ্রহকারীরা অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। 

The Business Standard এর তথ্য অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের কবলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাট। সরকার নির্ধারিত চামড়ার মূল্য অনুযায়ী, বেশি দামে কিনে পুঁজি হারাতে বসেছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। (১০ জুন, ২০২৫)

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই সিন্ডিকেটের তথ্য উঠে এসেছে। (প্রথম আলো, ১৩ জুলাই ২০২৪)

ফলে অনেক সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকশ’ টাকা কমে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন সংগ্রহকারীরা। কোন কোন জায়গায় সংগ্রহকারীরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় মাটিতে পুতে ফেলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিবেদনে বাজারের এই অস্থিরতা, অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে। 

চামড়ার এই নিম্নমুখী দাম ও বাজার সংকটের কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকটি কওমি মাদরাসা এ বছর চামড়া সংগ্রহ সীমিত করা বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সিলেট ও ঢাকার কিছু মাদরাসা। প্রশাসন মনে করছে, বিপুল শ্রম, পরিবহন ব্যয় ও সামাজিক ব্যবস্থাপনার তুলনায় বর্তমানে চামড়া থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকের কাছে এই কার্যক্রম আগের মতো অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর থাকছে না।

তাই সমালোচনার মূল কারণ শুধু চামড়া সংগ্রহ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত অগোছালো ব্যবস্থাপনা, অসম্মানজনক পরিবেশ এবং ন্যায্য মূল্যের সংকট। 

অথচ চামড়া শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পদ। বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি খাত। বিভিন্ন শিল্প-গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ায় চামড়া রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ৯ম। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারেও বাংলাদেশের অংশ ধীরে ধীরে বাড়ছে (এক্সপার্ট বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী)। ফলে কোরবানির মৌসুমে সংগৃহীত চামড়া শুধু মাদ্রাসাগুলোর অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যম নয়; বরং দেশের বৃহত্তর রপ্তানি অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সুতরাং সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, বাজারে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়, চামড়ার ন্যায্য মূল্য সংগ্রহকারী ও সাধারণ মানুষের কাছে নিশ্চিত করতে পারে এবং সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলে, তাহলে বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। অন্যথায় একসময় অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনার অভাবে যেমন দেশের পাটশিল্প ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তেমনি এই সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পও একদিন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কোরবানির চামড়া নষ্ট হয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সঠিকভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর কোরবানির পশুর ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি চামড়ায় কাটা-ছেঁড়া বা পক্সজনিত ক্ষত থাকে। ফলে কমে যায় এসব চামড়ার গুণগত মান ও বাজারমূল্য (জাগো নিউজ24, রোববার, ১০ মে ২০২৬)।

এদিকে ঈদের দিন কসাই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোরবানি করতে বাধ্য হন। অথচ সুন্নত হলো— কোরবানির দিনসমূহের মধ্যে প্রথম দিন কোরবানি করা উত্তম।

(আল-মাবসুত, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১০, বদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭০)

কীভাবে এ সংকটের সমাধান হতে পারে?

মাদরাসাগুলো এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্র, সমাজ ও মাদরাসার সমন্বিত উদ্যোগ হতে পারে এর কার্যকর সমাধান। যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদরাসাগুলোতে কসাই প্রশিক্ষণ, চামড়া সংরক্ষণ প্রশিক্ষণ, লবণ ও সংরক্ষণসামগ্রী সরবরাহ, দ্রুত পরিবহনব্যবস্থা এবং স্থানীয় সমন্বয় কমিটি গড়ে তোলা যায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটি আরও কার্যকর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে এলাকার মানুষ মাদরাসার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষিত কসাই নিতে পারবে। মাদরাসার প্রশিক্ষিত ছাত্ররা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের একটি অংশকে চামড়া ছাড়ানো ও সংগ্রহের কাজে এবং অন্য একটি অংশকে সংরক্ষণ সহায়ক দল হিসেবে কেবল লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত করবে। এতে ছাত্ররা অতিরিক্ত ক্লান্ত হবে না এবং কাজের মানও বাড়বে।

এরপর মাদরাসাগুলো মানুষের কাছে চামড়া দানের আহ্বান জানাবে এবং পরিকল্পিতভাবে তা সংরক্ষণ করবে। চামড়া সংগ্রহের ব্যাপারে আমিরে শরিয়ত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) বলেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ অসিয়ত থাকল, তারা যেন ছাত্রদের এভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করতে না পাঠায়; বরং মাদরাসা প্রাঙ্গণে ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প থাকবে। যেখানে মাদরাসা দরদী জনগণ নিজেদের দায়িত্বে চামড়া পৌঁছে দেবেন। আল্লাহ পাকের ওপর ভরসা করে মাদরাসা চালান। হেয়তাপূর্ণ কাজ বন্ধ করুন। (আমিরে শরিয়ত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. লেখক : নাসীম আরাফাত, পৃষ্ঠা : ১৯) 

সুতরাং এভাবে ত্রিমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে মানুষ সময়মতো ও সুন্দরভাবে কোরবানি করতে পারবে। মাদরাসার দরিদ্র ছাত্ররা আর্থিকভাবে উপকৃত হবে, মাদরাসারও উপকার হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে চামড়ার অপচয় কমবে।

লজ্জা নয়, প্রয়োজন, তবে শর্তসাপেক্ষে: 

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের মতো দেশে এখনো কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য কার্যকর কোনো বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো নির্ধারিত বাজেট নেই। ফলে চামড়া সংগ্রহ একটি প্রয়োজনীয় ও নৈতিক সহায়ক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

এটিকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি ছাত্রদের পড়াশোনার বড় ধরনের ক্ষতি হতে না দেওয়া। কাউকে বিব্রত বা চাপ প্রয়োগ করে চামড়া না নেওয়া। আখলাক, শালীনতা ও পরিচ্ছন্ন আচরণ বজায় রাখা। এলাকার মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পূর্বসমন্বয় রাখা। সংগ্রহের চেয়ে সংরক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

গত বছরের মতো এবারও প্রায় ২০ কোটি টাকার লবণ মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিনা মূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। (বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম এমনটাই জানিয়েছেন।) এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

তবে গত বছর বাস্তবে কিছু সমস্যা দেখা গিয়েছিল—নিম্নমানের লবণ বিতরণ, যারা চামড়া সংগ্রহ করে না তাদের কাছেও লবণ পৌঁছে যাওয়া, সময়মতো লবণ সরবরাহ না হওয়া, অব্যবস্থাপনা এবং তদারকির ঘাটতি। ফলে কোথাও কোথাও লবণ খোলাবাজারে বিক্রিও হয়েছে। এ বছর এসব সংকট দূর করা জরুরি।

সবশেষে একটি আক্ষেপের জায়গাও রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করছে, কিন্তু আজও শক্তিশালী কোনো আলেম-পরিচালিত চামড়া শিল্প, জুতা শিল্প কিংবা চামড়াভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। (হ্যাঁ, হাতেগোনা অল্প কয়েকটি আছে, যেটা যথেষ্ট নয়।) অথচ চামড়াশিল্প খুবই সম্ভাবনাময়। এতে মূল্য সংযোজন বেশি। 

যদি পরিকল্পিতভাবে চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জুতা, ব্যাগ, জ্যাকেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, পাশাপাশি নিজস্ব বাণিজ্যিক পরিচিতি ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়, তাহলে এটি শুধু দাননির্ভর অর্থনীতি হয়ে থাকবে না; বরং একটি টেকসই ইসলামী অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারবে।

ক্বওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রদের চামড়া সংগ্রহ কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটি একদিকে দ্বীনি খেদমত, অন্যদিকে জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের সামাজিক দায়িত্ব।

তবে সময়ের চাহিদায় এ ব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্পমুখী করা জরুরি। সুশৃঙ্খল সংগ্রহ, বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ এবং আত্মনির্ভর অর্থনৈতিক উদ্যোগ—এই তিনের সমন্বয়ই পারে দেশের চামড়া শিল্প ও দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিতে।

লেখক: উস্তাদ, জামিয়া ইসলামিয়া জহিরুদ্দিন আহমাদ মানিকনগর, মুগদা,ঢাকা।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ