শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪ ।। ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ ।। ২১ শাবান ১৪৪৫

শিরোনাম :

নির্বাচনে না যাওয়া ইসলামী দলগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| কাউসার লাবীব ||

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বেশ কয়েকটি দলের আপত্তির পরও দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এখন চলছে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই পরবর্তী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম। এদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা শতভাগ স্বচ্ছ নির্বাচন এবার উপহার দিতে যাচ্ছে। এর জন্য ইতোমধ্যেই তারা বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

তবে নির্বাচনে না আসা দলগুলো এসবের ওপর একেবারেই আস্থা রাখতে পারছে না। তারা ঘোষিত তফসিল বাতিল করে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। এসব দাবিতে ইতোমধ্যেই নিবন্ধিত ৪ ইসলামী দল নির্বাচনে যায়নি। দলগুলো হলো- চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, শায়খ জিয়াউদ্দীন নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস।

দাবি অনুযায়ী ঘোষিত বাতিল করা না হলে এবং স্বাভাবিক গতিতে নির্বাচন কার্যক্রম চলমান থাকলে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে এই ইসলামী ৪ দল? এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম দলগুলোর সিনিয়র নেতাদের কাছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একতরফা নির্বাচনী তফসিল বাতিল, সকল রাজবন্দিদের মুক্তি, বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন প্রবর্তণ দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে। এর অংশ হিসেবে আমরা জাতীয় সংলাপ, মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারক লিপি প্রদানসহ আমাদের কার্যক্রম চলমান। আজকেও আমাদের কর্মসুচী ছিল। শুক্রবারও আছে।

তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে আমাদের আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে পারে। জনগণের কল্যাণের জন্য আমাদের রাজনীতি। তাই তাদের কল্যাণে আমরা আমাদের আন্দোলনকে আরো কীভাবে বেগবান করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করছি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী জানান, বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। দলনিরপেক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের গণদাবী না মেনে সরকার যেভাবে একতরফা ও সাজানো নির্বাচনের দিকে আগাচ্ছে তা দেশের সংকটকে আরো তীব্র করবে। দেশ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হবে। তাই জাতীয় স্বার্থে চলমান রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি উত্তরণে ঘোষিত তফসিল বাতিল করে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবী আমরা সবসময়ই জানিয়ে আসছি। 

তার মতে, ইতোমধ্যেই প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আমরা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি জানান, আমাদের আন্দোলন তো চলমান। আমাদের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সরকার যদি নির্বাচন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যায় তা জনগণ মেনে নেবে না।

এদিকে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষেণ অনুযায়ী বর্তমানে নির্বাচেনের কোনো পরিবেশ নেই। আমরা আবারও দাবি করছি, ঘোষিত তফসিল বাতিল করে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন আয়োজন করা হোক। এর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকারও নিশ্চিত হবে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার যে নির্বাচন করছে এটা শুধু নিজেদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে হবে না। জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। নির্বাচনে কিন্তু নামসর্বস্ব কয়েকটি দল ছাড়া বড় কোনো দল যায়নি। আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য গণতান্ত্রিক কর্মসূচী আগেও পালন করেছি। সামনেও করবো।

অপরদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সম্ভব নয়। আমরা বার বার বলে আসছি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু সরকার এই দাবিকে উপেক্ষা করে ইসির মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করে দেশকে মহাসংকটের দিকে ধাবিত করেছে।

তিনি বলেন, আমরা আবারো দাবি জানাচ্ছি এই তফসিল বাতিল করে সরকার সবগুলো দলকে নিয়ে সংলাপে বসুক। বর্তমান সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন খুব প্রয়োজন।

দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে আপনাদের পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা কেমন হতে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী শনিবার আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং। সেখান থেকে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচী ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রয়েছে ১১টি ইসলামী দল। এর মধ্যে ৭টি দল ইতোমধ্যে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলগুলো হলো- বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সাত জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনী প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে বলে জানায় ইসি।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ