শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৩ রমজান ১৪৪৭


তারাবিহ নামাজের ফজিলত 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||ইমরান ওবাইদ||

দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখার পর আজ গত হচ্ছে দু’দিন। সেইসঙ্গে পবিত্র কালামের সুমধুর তেলাওয়াতে কেটে গেল দু’তারাবিহ । প্রতি রমজানে বাংলাদেশের প্রায় সকল মসজিদে খতম তারাবিহ পড়া হয়। মাসজুড়ে পুরো কোরআন শরিফ অন্তত একবার শেষ করা হয় তারাবিহর নামাজে। অনেকে দুই থেকে তিনবারও কোরআন খতম করেন। তবে এক খতমের ধারাটাই মুসলিম বিশ্বে বেশি প্রচলিত। 

তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ সবার ওপর তা আদায় করা কর্তব্য। অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়া  একটা গর্হিত কাজ। মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মুসলমানদের পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, যা ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে।

রমজানের অন্যতম বিশেষ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এই ইবাদত মুমিনের জন্য আত্মিক উন্নতির এক অনন্য মাধ্যম। কোরআন ও হাদিসে এর অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত আছে।

১. গুনাহ মাফ: 
তারাবির নামাজের সবচেয়ে বড় প্রতিদান হলো এটা গুনাহ মাফের অন্যতম মাধ্যমে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে (তারাবির নামাজ পড়বে) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি: ২০০৯)

২. রাতভর ইবাদতের সওয়াব:
জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমাম নামাজ শেষ করে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত জামাতের সাথে ( তারাবি ও বিতিরের) নামাজ আদায় করল,তার আমলনামায় পূর্ণ রাত নামাজ পড়ার সওয়াব লেখা হয়। ( তিরমিজি শরিফ: ৮০৬)

৩. কোরআন তেলাওয়াত শোনার সুযোগ:
রমজান মাসে খতমে তারাবির মূল লক্ষ্য হলো, নামাজে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা ও শোনা। রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। খতমে তারাবির মাধ্যমে পুরো কোরআন জনসাধারণের শোনার সৌভাগ্য হয়। আর কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা ও শোনা উভয়টি সওয়াবের কাজ। পবিত্র  কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যেন তোমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়।( সুরা আ’রাফ: ২০৪) 

পাশপাশি কোরআন তেলাওয়াতকারীর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কোরআন তেলাওয়াত করো, কারণ কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হবে।( সহিহ মুসলিম: ৮০৪)

৪. আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জন:
তারাবিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কোরআন তেলাওয়াত করা ও শোনা ধৈর্য এবং নিষ্ঠার পরিচায়ক। আর ধৈর্যশীলদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় ধৈর্যধারণকারীগণ অগণিত সওয়াবের অধিকারী হবে।( সুরা যুমার: ১০)

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ