শনিবার, ২৫ মে ২০২৪ ।। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ।। ১৭ জিলকদ ১৪৪৫


রমজানে নারীর ইবাদত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুশতারী তাসনিম মুন্নী।।

রমজান। আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অপর নাম। রহমত, বরকত, মাগফিরাতের মতো পুণ্য নিয়ে আসে আমাদের জীবনে। পাপ মোচন, নিজেকে শুদ্ধিকরণের অফুরন্ত সুযোগ এই রমজান।

রোজা একটি মনোদৈহিক ইবাদত। এটি যেমন পুরুষের জন্য ফরজ বিধান তেমনি নারীদের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। তবে মর্যাদার ক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে।

হাদীসে এসেছে, "যদি কোনো নারী ঠিকমতো পাচঁওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান মাসে রোজা রাখে, পর্দার সাথে নিজ ইজ্জত হেফাজতে রাখে, স্বামীর আনুগত্য থাকে, তাহলে সেই নারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের আটটি দরজাই খোলা রাখবেন, ওই নারী যে দরজা দিয়ে খুশি, সেই দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন "। (সুনানে তিরমিজি)

রমজানে নারীর ইবাদতে যে বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে আজ সে বিষয়গুলোই তুলে ধরছি :

কুরআন তেলাওয়াত।

কুরআন অবতীর্ণের মাস রমজান। কুরআন তেলাওয়াত নফল ইবাদতের মধ্যে স‌র্বোত্তম। তাই যতবার খুশি ততবারই আপনি কুরআন খতম দিতে পারেন। এজন্য সুযোগ করে আপনাকে সময় বের করে নিতে হবে। পুরো রমজানই একটু রুটিন মাফিক চলুন। কুরআন তেলাওয়াতের দ্বারা আপনার কলব পরিস্কার হবে।

নামাজ ঠিক রাখা।

রোজা রাখার দরুন ক্লান্তি যেনো আপনার নামাজে বাধা না হয়। অলসতা না করে আওয়াল ওয়াক্তে নামাজ আদায় করুন। নফল নামাজ সাথে রাখুন। আপনার আখিরাতের জন্য কাজে আসবে।

হারাম গুনাহ হতে দুরে থাকুন।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে আপনি হারাম বেছে চলুন। হারাম কাজ হতে নিজেকে বিরত রাখুন। একসময় হালাল আপনার অভ্যেস হয়ে যাবে।

জবান পবিত্র রাখুন ।

পরনিন্দা, গীবত কিংবা অশ্লীল বাক্য হতে নিজেকে দুরে রাখুন। গোটা দিন না খেয়ে, আল্লাহর জন্য রোজা রাখছেন, আবার পাশের প্রতিবেশী কিংবা কাছের কারও পরনিন্দা বা গীবত করছেন, তাহলে আর রোজার পবিত্রতা রাখা হলো কই? সুতরাং নিজেকে সংযত রাখুন এবং কেউ বলতে এলে তাকেও সাবলীল ভাবে বুঝিয়ে না বলুন।

চোখের হেফাজত করুন।

আধূনিকতার ছোঁয়ায় মুঠোফোন এখন স্মার্টফোন। পুরো পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয়। এখানে নাটক, সিনেমা বা নাচগান ছাড়াও চোখের যেনা হবার মতো অসংখ্য পথ রয়েছে। আপনি নিজেকে এসব হতে দুরে রাখুন। তেলাওয়াত শুনুন, ইসলামী সংগীত শুনুন ভালো লাগবে।

যিকির ও দোয়ায় লিপ্ত থাকুন।

যিকির আপনার জবানের হেফাজতের জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতি। হাটতে বসতে কাজে কর্মে আপনি যিকির করুন মনে মনে। ছোট ছোট দোয়ায় নিয়োজিত রাখুন নিজেকে। জবানের হেফাজত হবে। আত্মা সুস্থ হবে।

দান সদকা বাড়িয়ে দিন।

স্বামী ভাই কিংবা বাবা এদের অনুমতিক্রমে দান সদকা করুন। প্রতিবেশী, অসহায় স্বজন কিংবা দুয়ারে আসা ভিখারী অথবা মুসাফির। দান বা সদকা যে শুধু টাকাই দিতে হবে এমন নয়, হতে পারে পোশাক হতে পারে খাদ্যদ্রব্য কিংবা চিকিৎসার মতো প্রয়োজন। আপনার সামর্থ্য মতো দান সদকা করুন এবং আশেপাশের পরিচিতদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করুন

সেবাদান।

বাসার বয়স্ক রুগ্ন ব্যক্তিদের সেবায় এগিয়ে যান। শ্রদ্ধাবোধ এবং সম্মানের সাথে আল্লাহর খুশির জন্য যত্ন নিন। রোগীর সেবা কিন্তু ইবাদতের মধ্যেই গন্য।

সুতরাং একজন নারী দিনের শুরু হতে রাত পর্যন্ত নিজে নিজে একটা রুটিন তৈরি করুন। যেখানে সংসারের কাজের পাশাপাশি আপনি ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখতে পারবেন।

রমজান পবিত্রতম মাস। নিজের নফসকে পবিত্র রাখুন। নিজেকে সংযমী করুন | রমজান পেয়েও যদি আমরা আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা না করাতে পারি, যদি নিজের জীবনকে এর শিক্ষার আওতায় না নিয়ে আসতে পারি, তাহলে তা বড়ই দুঃখজনক।

তাই ইবাদতের আলোকে মহিমান্বিত করি রমজানের দিনগুলি। পবিত্র হোক জীবনযাপন পদ্ধতি।

এনটি


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ