সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিদেশি আলেমদের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দুটি কথা রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স মিট-আপ ২০২৬’ ময়মনসিংহের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে এমপি মুফতি মোহাম্মদুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের বিরুদ্ধে গণক্ষোভ বিস্ফোরিত হবে’ পরিবারিক শান্তি ও নিরাপদ দাম্পত্য নিয়ে ইনসাফ ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা  ইলিশের প্রজনন রক্ষায় জেলেদের নৌকা-জাল জমা নেওয়ার প্রস্তাব দ্রুত বাড়ছে তিস্তার পানি, ভাঙন আতঙ্কে ৯ গ্রামের মানুষ সিলেটে মাইকিং করে সংঘর্ষে জড়ালেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা, আহত ৩০ সুন্দরবনে ১৫ জন অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কে জেলে-মহাজন বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে মা-ছেলের মৃত্যু 

সালতামামি-২০২০: মসজিদ কাঁদে মুসুল্লি শূণ্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা ওয়াদুদ
নিউজরুম এডিটর

দুই হাজার বিশ। করোনার বছর। বছরের শুরুটা ততটা বিষাদ না ছড়ালেও শেষটা সুখের ছিলো না। বলা যায়, অনেকটা বছরের শুরু থেকেই শুরু হয় বিষময় দিন। বিষ ছড়ানো বিশ সালকে তাই অনেকেই বলছেন ‘বিষ সাল’। এ বছর এক অদৃশ্য মহামারির কবলে পড়ে বিশ্ব। লকডাউনে থেমে যায় পুরো পৃথিবী। সুনসান নিরবতা বিরাজ করে বিশ্বজুড়ে। ব্যস্ততম সড়কগুলো হয়ে পড়ে  নিরব। কোলাহল থেমে যায় সবার। যানবাহনের চাকাগুলো অচল হয়ে পড়ে। না ঘুরতে ঘুরতে চাকায় জং পড়ে যায়। মানুষগুলো কেমন ভুতুড়ে রুপ ধারণ করে। কারো সাথে ছিলো না কারো সাক্ষাত। সবাই যার যার মতো নিজ ঘরে অবস্থান নেয়। এ যেনো এক অজানা পৃথিবী। দুনিয়ায় থেকেই কেয়ামাতের চিত্র দেখে বিশ্ববাসী।

করোনার থাবা শুধু রাস্তা-ঘাট কিংবা যানবাহনের গাঁয়েই লাগেনি। বরং আল্লাহর ঘর মসজিদ ও রাসূলের ঘর মাদরাসায়ও লেগেছিলো। সে এক বিষাদময় উপখ্যান। যা কখনো কারো কল্পনাতেও ছিলো না। সে অকল্পনীয় বিষয়টিই ঘটতে দেখলো বিশ্ববাসী।

করোনার দোহাই দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় সব মসজিদ। মানুষ প্রতিদিন পাঁচবার হাজিরা দিতো  যে মসজিদে। সে মসজিদে লেগে যায় তালা। সাপ্তাহিক জুমাতেও মসজিদে প্রবেশের সুযোগ মিলেনি। রমজানে রাতের তারাবি, মাস শেষে ঈদুল ফিতরের নামাজ, নামাজ শেষে কোলাকুলি- এসব করার কোনো উপায়ই ছিলো না। কেউতো কারো কাছেই আসতো না। কোলাকুলি কিংবা মুসাফাহাতে ছিলো নিষেধাজ্ঞা। তাই ইসলামী এসব রীতিনীতি বা বিধানাবলি পালনের ব্যাপক সুযোগ ছিলো।

যে করোনা নামক ভাইরাসের থাবায় থমকে গেছে পৃথিবী সেটি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর। চীনের উহান শহরে। এরপর এর রুপ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি। আর বাংলাদেশে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে গত ৮ মার্চ।

এরপর থেকেই দেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নোটিশ দেয় সরকার। কিন্তু তখনো মসজিদ খোলা ছিলো। অন্য সময়ের চেয়ে মসজিদে মানুষের উপস্থিতি তখন অনেক বেড়ে গিয়েছিলো।

করোনার আগে যে মসজিদে ফজরের নামাজে মুসুল্লি হতো এক কাতার। সে মসজিদেই করোনাকালীন সময়ে মুসুল্লি হতো ১০ কাতার। মানুষ মসজিদমুখি হয়ে গিয়েছিলো বলা চলে। কিন্তু ইসলামবিদ্ধেষী শক্তির এটা পছন্দ হয়নি। তাই তারা কিভাবে মসজিদ বন্ধ করবে সে চিন্তায় শ্লোগান তুলে মসজিদে মানুষের জমায়েত বেশি হয়ে যাচ্ছে। মসজিদ থেকে ছড়াতে পারে করোনা। তাই যে করেই হোক, করোনা ছড়ানোর পুর্বেই মসজিদগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।