বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


কাতারে দেড় হাজার বাংলাদেশি কোয়ারেন্টাইনে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: করোনাভাইরাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পরই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে কাতারে। সেখানে মোট আক্রান্ত ৪৭০ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংকট মোকাবেলায় দেশটিতে কেবল কাতারের নাগরিক ছাড়া সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জানা যায়, কাতারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সব স্কুল-কলেজ, ব্যসায়িক প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালতসহ সব ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদে জুমাসহ অন্যান্য নামাজ পড়াও বন্ধ। সতর্কতার অংশ হিসেবে বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের পাঁচ তারকা হোটেলে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যেসব এলাকায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে সেসব এলাকাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে।

১৭ মার্চ থেকে দেশটির শিল্প এলাকা সানাইয়া সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। দুই সপ্তাহের জন্য সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন কারখানায় বাংলাদেশিসহ বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। তাদের বসবাসও ওই নগরীতে।

সানাইয়া বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সেখানকার শ্রমিকরা বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। তাদের কয়েকজন জানান, সরকারিভাবে তাদের চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। যারা কাজে যেতে পারছেন না তাদের মাস শেষে বেতন পাওয়ার বিষয়টি আশ্বস্ত করেছে শ্রম মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সঙ্কট মোকাবেলায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি ৭৫ বিলিয়ন রিয়ালের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার ভাড়া ও বিল মওকুফ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাতারে সবাইকে নিজ নিজ বাসস্থানে থাকার তাগিদ দিচ্ছে সরকার। ঘরে থাকতে মানুষ যেন আগ্রহী হয়ে উঠে সে লক্ষ্যে বাড়তি মূল্য ছাড়া ইন্টারনেট গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেইসঙ্গে দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনলাইনে প্রতিযোগিতার আয়োজন চলছে।

দেশটিতে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক সরকারি নজরদারিতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এ জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইনও স্থাপন করা হয়েছে। জানা যায়, এসব কোয়ারেন্টাইনে বাংলাদেশের অন্তত এক হাজার ৫০০ জন শ্রমিক আছেন।

ভবিষ্যতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে- এমনটা ধরে নিয়েই নিরাপদ কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে দেশটির আলখোরসহ দূরবর্তী এলাকায় অস্থায়ীভাবে ক্যাম্প নির্মাণ করছে সরকার।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ