শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮


আরাকানের স্বাধীনতা ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান অসম্ভব: মাওলানা লিয়াকত আলী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা লিয়াকত আলী। আলেম, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক। মাদরাসা দারুর রাশাদের মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব প্রাজ্ঞ এ আলেম দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র সহ-সম্পাদক পদে কর্মরত রয়েছেন।

সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতাউর রহমান খসরু।

আওয়ার ইসলাম : বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটের ‍মূল কারণ কী?

মাওলানা লিয়াকত আলী : মূল কারণ উগ্র জাতীয়তাবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষ। একটি ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। তাহলো, মুসলিমদের কাছ থেকে বার্মিজরা স্বাধীন আরাকান রাজ্য দখল করে এবং মুসলিমদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। বার্মিজদের পূর্ব নির্যাতন ও রাষ্ট্র ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষোভ থেকে ব্রিটিশ বাহিনী বার্মা আক্রমণ করলে আরাকানের মুসলিমগণ ব্রিটিশদের সাহায্য করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও মুসলিম ব্রিটিশের পক্ষ নিয়ে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আর বার্মিজরা ছিলো জাপানের পক্ষে। জাতিগত ঐতিহাসিক এ সংঘাত বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।

মুসলিম সহযোগিতার বিনিময়ে ব্রিটিশ বাহিনী আরাকানের স্বাধীনতার আশ্বাস দিয়েছিলো। কিন্তু তারা মুসলমানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। ব্রিটিশদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানের আজ এ দুর্দিন।

আওয়ার ইসলাম : মিয়ানমার বার বার দাবি করছে ১৮২৪ সালের পূর্বে রাখাইন রাজ্যে কোনো মুসলিম ছিলো না। ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর তারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছে। এ দাবি কতোটা সত্য?

মাওলানা লিয়াকত আলী : দাবিটা সম্পূর্ণ মিথ্যে। আরাকানে ‍ইসলামের প্রচার হয়েছে আরব ব্যবসায়ী ও ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে। বার্মিজরা রাখাইন দখল করার পূর্বে সেখানে স্বাধীন মুসলিম আরাকান রাষ্ট্র ছিলো। মুসলিম শাসকগণ আরাকান শাসন করতেন। এটা হতে পারে ব্রিটিশ আনুকূল্যে সেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠির সমাগম বেড়েছে। ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদী সরকার তাদের স্বার্থেও বহু মুসলিমকে মিয়ানমারে পাঠিয়েছে কর্মচারী ও কর্মকর্তা হিসেবে। ব্রিটিশদের মাধ্যমেই সেখানে রোহিঙ্গাদের গোড়াপত্তন হয় একথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আর মিয়ানমারের দাবী যদি সত্যও হয়, তবুও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। কেননা আন্তর্জাতিক আইনে মানুষের দেশ, নাগরিকত্ব ও বাসস্থান পরিবর্তনের অধিকার দেয়া হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম : দীর্ঘ অর্ধ-শতà¦