প্রবীণ আলেম ও খ্যাতিমান ওয়ায়েজ সুপ্রসিদ্ধ মুফাসসিরে কুরআন শায়খুল হাদিস আল্লামা মোস্তফা আল হুসাইনী ঢাকার সায়েদাবাদ অবস্থিত আল-কারীম জেনারেল হাসপাতালে বুধবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছে। তার মৃত্যেুতে গোটা আলেম সমাজে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।
আল্লামা মোস্তফা আল হুসাইনী রহ. এর সহকর্মী আরেক বিখ্যাত দাঈ মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ। দীর্ঘ দিন একসঙ্গে থেকে দেখেছেন তাকে। আওয়ার ইসলামের সঙ্গে সদ্য আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া এ মুফাসসিরকে নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ করলেন।
মুঠোফোনে বলা স্মৃতিকথাগুলো সাজিয়েছেন আতাউর রহমান খসরু ও জামিল আহমদ
অত্যন্ত ব্যথাভরা হৃদয় নিয়েই আজ আপনার সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। দেশের অন্যতম প্রবীণ আলেম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মোস্তফা আল হুসাইনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমি আজই তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং তার পরিবারকে বলেছিলাম, হজরতের চিকিৎসায় যেনো কোনো কমতি না হয়। টাকা-পয়সার ব্যবস্থা দরকার হলে আমরাও করবো।
হজরতের সঙ্গে আমার পরিচয় সুদীর্ঘকালের আমি যখন কিশোর বয়সী তখনই তিনি দেশের তারকা বক্তা। সারা দেশের মানুষ তাকে এক নামে চেনে। বাংলাদেশে আমার দৃষ্টিতে চারজন লোক ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াজ ও তাফসির মাহফিলের মাধ্যেমে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। তারা হলেন, খতিবে আজম আল্লামা সিদ্দিক আহমদ রহ., এরপর পর আসেন আল্লামা মোস্তফা আল হুসাইনী, তার ১৫ বছর পর মাঠে আসেন আল্লামা হাবিবুল্লাহ মেসবাহ এবং বর্তমানে মাঠে আছেন আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী।
আল্লামা মোস্তফা আল হুসাইনী রহ. যুবক বয়সেই বয়ান শুরু করেছেন এবং মুফাসসিরে কুরআন হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। তার অনেক পরে এসে আরও পনের বছর আগে চলে যান মাওলানা হাবিবুল্লাহ মেসবাহ রহ.। কিন্তু আল্লামা মোস্তফা আল হুসাইনী রহ. এই ঈদের দিন পর্যন্ত দুআ মাহফিল করেছেন।
৫৭ বছর মাঠে ময়দানে ওয়াজ মাহফিল করে মুসলমানের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনিভাবে ইসলামের সঠিক আকায়েদ আমাল নির্বিঘ্নে প্রচার করেছেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। তিনি ইসলামের প্রচার ও ইলমে দীনের খেদমতে যে কাজ করেছেন এটার নজির বিরল এই দেশে ও দেশের বাইরেও।
আমার মনে পড়ে আমি তখন কিশোর বয়সী। তখন আমার বয়স হবে ১০/১২ বছর, তখনকার সময় তিনি ফেনী বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আসতেন, আমরা তখন ভালোভাবে বুঝতামও না। এতোটুকু বুঝতাম মানুষ তার বয়ান শুনতে চায়। তার জন্য অপেক্ষা করে। সেই সময় আমার বয়স যদি ১২ বছর ধরা হয় আর এখন আমার বয়স ৫৭ বছর। ১