২০১৭-০১-০৩

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

কাশ্মির নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট মানবাধিকারের

OURISLAM24.COM
news-image

kasmirআওয়ার ইসলাম: পিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (পিএইচআর)। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এক আন্তর্জাতিক সংস্থা। নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থা তিন দশক ধরে সায়েন্স ও মেডিসিনকে ব্যবহার করে আসছে নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাস্তব প্রমাণ হাজির করে এর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সচেতন করে তুলতে, যাতে পৃথিবী থেকে নৃশংসতা ও অমানবিকতার অবসান ঘটে।

এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা সুনির্দিষ্ট একটি ধারণার ওপর : স্বাস্থ্যবিষয়ক পেশাজীবীরা তাদের বিশেষায়িত দক্ষতা, নৈতিক দায়িত্ব ও আস্থাযোগ্য বক্তব্যসূত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এক অনন্য অবস্থান ধারণ করতে পাবেন।

পিএইচআর সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে নিজস্ব তদন্তের ওপর ভিত্তি করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ‘Blind to Justice: Excessive Use of Force and Attacks on Health Care in Jammu and Kashmir, India, December, 2016’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর অতিমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতার উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে পিএইচআরের নিজস্ব স্টাফ দিয়ে, ২০১৬ সালের আগস্ট-অক্টোবর সময়ে কাশ্মিরের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে। একই সাথে পিএইচআর লিডারশিপ পুরো রিপোর্ট নিজস্ব উপায়ে পর্যালোচনা করে তা চূড়ান্ত করেন।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়- ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে কাশ্মিরিদের ওপর অতিমাত্রিক শক্তি প্রয়োগ করেছে জম্মু ও কাশ্মিরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলার সময়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চলেছে গুলির পর গুলি। এর ফলে নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৭ জন, আর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯০০ জন। বিক্ষোভ দমনের জন্য ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী যেসব অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে সেগুলোকে ‘লেস দেন লেথাল’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও কার্যত এগুলো অনেকের মৃত্যুর ও মারাত্মক আঘাতের কারণ ছিল। অনেকেই এমন আহত হয়েছেন যে, তাকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। এসব অস্ত্রশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী যেমনি ব্যবহার করেছে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে, তেমনি ইটপাটকেল নিক্ষেপকারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাস ছিটানোসহ পিপার গ্যাস শেলও নিক্ষেপ করা হয়।১২ গজ শুটগান থেকে ছোড়া হয় মেটাল পেলেট, আহতদের বেশির ভাগই এই মেটাল পেলেটের আঘাতের শিকার।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অস্ত্র ববহার করা হয়েছে আহতের মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য। তবে পিএইচআর গবেষকেরা বলেছেন, এসব অস্ত্রের আঘাতে অনেক বিক্ষোভকারী মারাত্মকভাবে আহত হওয়াসহ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট মতে, জম্মু ও কাশ্মিরে কর্মরত চিকিৎসক ও সুশীলসমাজের বিভিন্ন সংস্থা নজর রেখেছে আহত ও নিহতের সংখ্যার ওপর। সে অনুযায়ী, ১২-গজ শুটগানে আহত হয়ে মারা গেছেন ১২ থেক ১৫ জন, আর আহত হয়েছেন ৫২০৮ জন। বাকি আহত-নিহতরা ছিলেন গানশুটের অথবা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের কিংবা অন্যান্য ধরনের ক্রাউড কন্ট্রোল ওয়েপনের শিকার।

পিএইচআর বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ১২-গজ শুটগানের বিষয়টি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। বিশেষজ্ঞেরা দেখতে পেয়েছেন, ১২-গজ শুটগান অন্তর্নিহিতভাবেই অযথার্থ, ভেদবুদ্ধিহীন ও অক্ষম, এমনকি স্বল্পদূরত্বে সফট টিস্যুতে প্রবেশ করতে। সাধারণভাবে, কাইনেটিক ইমপেক্ট প্রজেক্টাইল (এক ধরনের অস্ত্র, যাতে অন্তর্ভুক্ত আছে ১২-গজ শুটগান ফায়ারিং পেলেট কার্টিজ) ব্যবহার উচিত নয় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য। কারণ এসব অস্ত্রের বেশির ভাগই জনতার বিরুদ্ধে নিরাপদে ব্যবহার করা যায় না। কাছ থেকে পেলেট ও রাবার বুলেট প্রয়োগ করলে তা লাইভ অ্যামিনিউশনের মতোই ক্ষতি করতে পারে।
পিএইচআরের তৈরি এই দলিলে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এই অত্যধিক বল প্রয়োগ, তদন্তহীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি সংঘটিত হয়েছে ৮ জুলাই থেকে অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে।
জম্মু ও কাশ্মিরে বিক্ষোভকারীদের ওপর এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে পিএইচআর সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাবিষয়ক পেশাজীবী, আইনবিদ ও আহত বিক্ষোভকারীর। চিকিৎসকদের ও গণমাধ্যমের বর্ণনা থেকে

জানা যায়, ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভকারীদের জরুরি চিকিৎসাসেবাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। হয়রানি করেছে সেই সব চিকিৎসককে, যারা এদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসকেরা হাসপাতালে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছতে না পারেন। অধিকন্তু, পিএইচআর যেসব ডাক্তারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাদের সবাই বলেছেন, ইউনিফর্ম পরা ও সাদা পোশাক পরা পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর নজর রেখেছে। তারা বলেছেন, কখনো কখনো পুলিশ নাম জানতে চাইত, দিনশেষে রোগী ভর্তির রেজিস্টার চেয়ে নিয়ে নিত। এসব তথ্য ব্যবহার করে পুলিশ আহত বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করত। বলা হতো, এরা বেআইনি সমাবেশে যোগ দিয়েছিল।

আলোচ্য রিপোর্ট মতে, জম্মু ও কাশ্মিরের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে অতিমাত্রিক শক্তি প্রয়োগ করেছে তা দেশটির নাগরিক সাধারণের জীবনের ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এবং বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এর মাধ্যমে দেশটি বৈধ বাকস্বাধীনতা ও বৈধ সমাবেশ করতে দিতে এবং সেইসাথে হয়রানির বিরুদ্ধে পুলিশি সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নিরাপত্তাবাহিনীর জবাবদিহিতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। কারণ, নিরাপত্তাবাহিনী অপ্রয়োজনীয় ও অতিমাত্রিক বল প্রয়োগের ফলে সেখানে বিক্ষোভকারী মারাত্মক আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যে পর্যায়ে জম্মু ও কাশ্মিরে এই ভায়োল্যান্স চলেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।

বিশ্বে একটি মানবাধিকার কাঠামো গড়ে ওঠে ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে ভয়াবহ দুই বিশ্বযুদ্ধের পর। তখন আন্তর্জাতিক মহল ইহুদিবিরোধী জার্মান হলোকাস্ট ঠেকাতে ব্যর্র্র্থ হয়েছিল। এর পর বিশ্ববাসী পেল ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা’ ও ‘জেনোসাইড কনভেনশন’। জাতিসঙ্ঘকে করা হলো এসব অধিকার সুরক্ষার হর্তাকর্তা। বলা হলো, জাতিসঙ্ঘের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিকপর্যায়ে এসব মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা।

জাতিসঙ্ঘকে কর্তৃত্ব দেয়া হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার। এমনকি প্রয়োজন হলে বল প্রয়োগ করে সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশকে এসব মানবাধিকার মানতে বাধ্য করবে জাতিসঙ্ঘ; কিন্তু জাতিসঙ্ঘ ও এর স্বীকৃত অঙ্গসংস্থাগুলো চরম ব্যর্থ হয়েছে সে দায়িত্ব পালনে। ভারত জম্মু ও কাশ্মিরে যা করছে, তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও রীতিমতো চরম যুদ্ধাপরাধের শামিল। একইভাবে বছরের পর বছর ধরে ইসরাইল ফিলিস্তিনে যা করে আসছে এবং পাশের দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার যে নৃশংসতা চালাচ্ছে তার আরো চরম মাত্রার মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের শামিল। তা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জাতিসঙ্ঘ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

কাশ্মিরিদের ওপর হেন নৃশংসতা নেই যা ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী চালাচ্ছে না। দেশটি অব্যাহতভাবে কাশ্মিরের নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করছে। কশ্মিরি তরুণদের ধরে নিয়ে গুম করা হচ্ছে। কাশ্মির থেকে আবিষ্কার হচ্ছে নানা গণকবর। মা-বোনেরা ধর্ষিত হচ্ছেন ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর জোয়ানদের হাতে।

কাশ্মিরে এমন গ্রামও আছে যেখানে মা-বোনেরা গণহারে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ গ্রামের মেয়েদের অন্য গ্রামের লোকেরা বিয়ে পর্যন্ত করতে চায় না। অনেক নববধূ পর্যন্ত এদের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কাশ্মিরিরা যখনই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে, কিংবা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের কথা বলেছে, প্রতিশ্রুত গণভোটের দাবি উচ্চারণ করেছে, তখনই শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর গুলি চালিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। নিরাপত্তাবাহিনী গোপন অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছে কাশ্মিরের বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের।
কিন্তু জাতিসঙ্ঘ ও এর অ্যাক্রিডিটেড সংস্থাগুলো চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ভারতকে এ ধরনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বিরত করতে। আসলে কাশ্মিরে ভারত যা করে চলেছে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন তো বটেই, বরং রীতিমতো তা যুদ্ধাপরাধের শামিল। ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী কাশ্মিরে হত্যা করছে নিরস্ত্র মানুষকে। নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে শান্তিপূর্ণ মিছিলকারীদের। সেখানে কাশ্মিরিদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যা ও গুমের কারণে হাফ-উইডো ও হাফ-অরফেনের সংখ্যা বেশুমার। কাশ্মিরে মেটাল পেলেটের আঘাতে আজ সেখানে শত শত কাশ্মিরিকে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে।

বিশ্বের বিবেকবান মানুষের প্রত্যাশা ছিল, জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন ভারতের সাথে অন্তত তার বক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের অমানবিক কাজ থেকে ভারতকে দমিত করবে। উল্লেখ্য, বান কি মুনের কন্যা বিয়ে করেছেন একজন ভারতীয়কে। তার নিজের স্বীকারোক্তি মতে, ভারতের প্রতি রয়েছে তার বিশেষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রশ্ন হচ্ছে, কাশ্মিরিদের রক্ষায় তিনি কেন তার সেই বিশেষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগাননি। একই প্রশ্ন তোলা যায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনা নিয়েও।
জাতিসঙ্ঘের অ্যাফিলিয়েটেড সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মান্ডেট রয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট তৈরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর। এগুলোও ভারতের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এসব সংস্থাকে জাতিসঙ্ঘে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয় নৈতিক অ্যাজেন্ডাকে, যেমন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য। কথা ছিল, এসব সংস্থা যেসব দেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে তাদের নামোল্লেখ করে তাদের প্রতি নিন্দা জানাবে। তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির প্রেক্ষাপট তৈরি করবে।

ভারতের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুরোপুরি মাত্রায় ভারতীয়করণ করা হয়েছে। এর ফলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্ডিয়ান চাপ্টার এ ব্যাপারে পুরোপুরি নীরব। বলা যায়, এটি এখন ভারতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক মহলের এ ব্যাপারে নীরবতায় বিশ্বের বিবেকবান মানুষকে উদ্বিঘ্ন করে বৈ কি! এ ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘের ব্যর্থতাও মানুষকে উদ্বিগ্ন করে এবং সেই সাথে ক্ষুব্ধ করে। আন্তর্জাতিক মহলের এই নীরবতা মানবসভ্যতার জন্য চরম এক আত্মঘাতী প্রবণতা। এ থেকে বিশ্ব মানবসমাজ উত্তরণ ঘটাতে না পারলে একদিন আমরা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করার অধিকারটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলব। সেই আশঙ্কাজনক এক প্রেক্ষাপটে আজ আমরা দাঁড়িয়ে।

ডিএস